মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
হালিম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম ধূলদিয়া ইউনিয়নের পুরুরা গ্রামের বাবলু মিয়া। একসময় স্বপ্ন ছিল বিদেশে যাওয়ার। তবে সেই স্বপ্নে ভাটা পড়ে। বিদেশে না গিয়ে নিজের মেধা, শ্রম ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

দীর্ঘদিনের চেষ্টা, চিন্তাভাবনা ও পরিশ্রমের পর শিশুদের জনপ্রিয় হাওয়াই মিষ্টি তৈরির একটি ব্যতিক্রমী মেশিন তৈরি করেছেন বাবলু মিয়া। তাঁর এই উদ্যোগে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন তিনি নিজেও।
বাবলু মিয়ার দাবি, তাঁর তৈরি মেশিনের মাধ্যমে আকর্ষণীয় মোড়কে হাওয়াই মিষ্টি তৈরি করা সম্ভব। একই সঙ্গে রংবিহীন, মানসম্মত ও তুলনামূলক স্বাস্থ্যসম্মতভাবে এই মিষ্টি উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।
বাবলু মিয়া বলেন, “শিশুদের কাছে হাওয়াই মিষ্টি খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু নিম্নমানের উপকরণ ও অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় তৈরি কিছু পণ্যের কারণে খাবারটি নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। অল্প খরচে মানসম্মত পণ্য তৈরি করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চিন্তা থেকেই মেশিনটি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি।”
শুধু মেশিন তৈরি করেই থেমে থাকতে চান না বাবলু। তাঁর স্বপ্ন, এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে রূপ দেওয়া। একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সেখানে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাবলু মিয়া বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরে নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশে থেকেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই চিন্তা থেকেই হাওয়াই মিষ্টি তৈরির মেশিন বানানোর কাজে হাত দেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা পেলে বাবলু মিয়ার এই উদ্যোগটি ভবিষ্যতে সম্ভাবনাময় একটি ক্ষুদ্র শিল্পে পরিণত হতে পারে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
হালিম বিক্রেতা থেকে উদ্ভাবক হওয়ার পথে বাবলু মিয়ার এই যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং স্বপ্ন, শ্রম ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি অনুপ্রেরণার গল্প। তাঁর প্রত্যাশা, সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগ একদিন নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আরও অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করবে।
Leave a Reply