মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি মো: রোকনুজ্জামান শরীফ
আসন্ন উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং সুশাসনের অভাব কাটিয়ে উঠতে এবার যোগ্য, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব বেছে নিতে চান সাধারণ ভোটাররা। মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ এবং রাজনৈতিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: আলোচনায় যারা
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এবার একঝাঁক নতুন ও অভিজ্ঞ মুখের নাম শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাঁদের নাম সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে, তাঁরা হলেন:
এ আর মামুন খান: সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি।
শরীফ মোঃ আব্দুল জলিল: আমির, মঠবাড়িয়া উপজেলা জামায়াত।
জসিম উদ্দিন ফরাজী: সভাপতি, মঠবাড়িয়া পৌর বিএনপি।
আবু বকর সিদ্দিক বাদল: সাবেক সদস্য সচিব, উপজেলা বিএনপি।
মামুন বিল্লাহ: সাবেক সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
খলিলুর রহমান খোকন: সাবেক সহ-সভাপতি, মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপি।

পৌরসভা নির্বাচন: পরিবর্তনের ডাক
মঠবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা সমীকরণ। বিশেষ করে প্রবাস ফেরত ও স্থানীয় ত্যাগী নেতাদের ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে। মেয়র পদে আলোচিত প্রার্থীরা হলেন:
জাকির হোসেন খান: মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও কানাডা বিএনপির সহ-সভাপতি। তিনি দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে এলাকার উন্নয়নে নিজেকে সঁপে দিতে চান।
আলহাজ্ব কে এম হুমায়ুন কবির: সাবেক বিশেষ সম্পাদক, পিরোজপুর জেলা বিএনপি।
মিজানুর রহমান মিজান: সভাপতি, মঠবাড়িয়া পৌর বিএনপি।
মোঃ হারুন-অর-রশিদ: সাবেক প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর ও সাংগঠনিক সম্পাদক, পৌর বিএনপি।
প্রার্থীদের ভাবনা
নিজের লক্ষ্য নিয়ে জাকির হোসেন খান বলেন, “আমি মঠবাড়িয়া পৌরসভার পরিবেশগত আমূল পরিবর্তন এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের বার্তা পৌরবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই।”
অন্যদিকে, আলহাজ্ব কে এম হুমায়ুন কবির তাঁর দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, “জনগণের অধিকার ও সেবার মান নিশ্চিতে আমি মঠবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত।”
সার্বিক চিত্র
মঠবাড়িয়ার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এবার পরিবর্তনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মূল প্রশ্ন—কে পারবেন টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে? আসন্ন এই নির্বাচনে যোগ্য নেতৃত্বের হাত ধরেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে, এমনটাই এখন মঠবাড়িয়াবাসীর প্রত্যাশা।

Leave a Reply