আলমগীর কবির, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলাধীন ধলাইরচর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আলফাডাঙ্গা পৌরসদরে অবস্থিত মৃত ইয়াজউদ্দিন মোল্লার ছেলে আঃ মান্নান মোল্লা ও তার পক্ষীয় লোকজনের উপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পৌর সদরের হাসপাতালের সামনে অতর্কিত হামলা করে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো: মোসলেম মোল্লা গংদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ ২০ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বেলা ২ টার সময়ে।
এ বিষয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আ:মান্নান মোল্লা বলেন,
হামলসকারী মসলেম মোল্লা গংরা অত্যন্ত খারাপ, আওয়ামীলীগের দোসর, ক্ষতিকারক, লাঠিয়াল, দাঙ্গাবাজ ও ষড়যন্ত্রকারী। লোক বলে বলিয়ান হয়ে অন্যের ক্ষতি করাই বিবাদীদের নেশা ও পেশা। ১নং বিবাদীর অধীনে আমি সহকারী শিক্ষক হিসাব চাকুরী হতে অবসর গ্রহণ করি। ১নং বিবাদী আমাকে পেনশনের সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলনের সুযোগ না দেওয়ায় বিবাদীদের সাথে আমার বিরোধ সৃষ্টি হয়। উক্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিবাদীরা ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় আরো অজ্ঞাতনামা ২০/২২ জন দস্যু প্রকৃতির লোকজন সঙ্গে করিয়া রামদা, ছ্যানদা, চাপাতি, লোহার রড, হকিস্ট্রিক, লোহার হাতুড়ি, বাশের লাঠি, এসএস পাইপ ইত্যাদি জীবন নাশক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আলফাডাঙ্গা চৌরাস্তায় পূর্ব হতে ওঁৎ পেতে থাকাবস্থায় আমি ও আমার বড় ছেলে মোঃ টুটুল মোল্যা (৪০) ও ছোট ছেলে মোঃ সিফায়েত মোল্যা (৩০) বাজার করার উদ্দেশ্যে পায়ে হেটে আলফাডাঙ্গা চৌরাস্তা পার হয়ে বিবাদীরা চারপাশ দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং এলোপাথারী ভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে। শোরচিৎকারে আশে পাশের লোকজন আগাইয়া আসিয়া বিবাদীদের হাত হতে আমার দুই ছেলেকে জীবনে রক্ষা করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। কর্তব্যরত ডাক্তার এক্সে করার জন্য বলিলে মোঃ টুটুল মোল্যা ও মোঃ সিফায়েত মোল্যা হাসপাতাল হতে এক্সে করার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে হাসপাতাল গেটের সামনে পৌছানো মাত্র উপরোক্ত বিবাদীরা ঘটনার তারিখ ও সময় দ্বিতীয় বারের মত আক্রমণ করে এবং ১নং বিবাদী তার সঙ্গীয় অজ্ঞাতনামা বিবাদীদের হুকুম দিয়া বলে আজ ওদের জীবনে শেষ করে দে। এই হুকুম পাওয়া মাত্র সকল বিবাদীরাগন আমার ছেলে মোঃ টুটুল মোল্যাকে এলোপাথারী ভাবে কিল ঘুষি ও লাথি মারিতে থাকে। অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা লোহার রড, হকিস্ট্রিক, লোহার হাতুড়ি, বাশের লাঠি, এসএস পাইপ দিয়ে এলোপাথারী ভাবে বারাইয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে। ঐ সময় ২নং বিবাদীর হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে মোঃ টুটুল মোল্যাকে খুন করার উদ্দ্যেশে মাথ্য লক্ষ্য করিয়া কোপ দিলে উক্ত কোপ মোঃ টুটুল মোল্যা এর মাথার মধ্যখানে লাগিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। ১নং বিবাদী পিছন হতে ধারালো চাপাতি দিয়ে মোঃ টুটুল মোল্যাকে খুন করার উদ্দ্যেশে মাথা লক্ষ্য করিয়া কোপ দিলে উক্ত কোপ মোঃ টুটুল মোল্যা এর মাথার পিছনে লাগিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। আমার ছোট ছেলে মোঃ সিফায়েত মোল্যা ঠেকাইতে গেলে ঐ সময় ২নং বিবাদীর হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে মোঃ সিফায়েত মোল্যাকে খুন করার উদ্দ্যেশে মাথা লক্ষ্য করিয়া কোপ দিলে উক্ত কোপ মোঃ সিফায়েত মোল্যা এর মাথার উপর বাম পাশে লাগিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। শোরচিৎকারে আমি ও আমার ও আমার নাতি মোঃ ফাহাদ মৃধা আগাইয়া যাইয়া ঠেকাইতে গেলে অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা আমাকে ও মোঃ ফাহাদ মৃধাকে এলোপাথারী ভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি মারিতে থাকে। অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা বাশের লাঠি, লোহার রড, হকিস্ট্রিক, এসএস পাইপ, বাশের লাঠি দিয়ে বারাইয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে। ২নং বিবাদীর হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে আমাকে খুন করার উদ্দ্যেশে মাথা লক্ষ্য করিয়া কোপ দিলে উক্ত কোপ আমার মাথার উপর লাগিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। ১নং বিবাদী পিছন হতে ধারালো চাপাতি দিয়ে আমাকে খুন করার উদ্দ্যেশে মাথা লক্ষ্য করিয়া কোপ দিলে উক্ত কোপ আমার মাথার পিছনে লাগিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। আমার নাতি মোঃ ফাহাদ মৃধা ঠেকাইতে গেলে ঐ সময় ২নং বিবাদীর হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে মোঃ ফাহাদ মৃধাকে খুন করার উদ্দ্যেশে মাথা লক্ষ্য করিয়া কোপ দিলে উক্ত কোপ মোঃ ফাহাদ মৃধা এর মাথার উপর বাম পাশে লাগিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। ঐ সময় ২নং বিবাদী জোর পূর্বক আমার ছেলে মোঃ টুটুল মোল্যার প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ ৫০,০০০/-টাকা এবং বাম হাতে থাকা ১ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের ব্যাসলেট বর্তমান বাজার মূল্য ২,৫০,০০০/-টাকা এবং দেড় ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন মূল্য অনুমান ৩,৭৫,০০০/- টাকা হইবে ছিনাইয়া নিয়া যায়। শোরচিৎকারে আশে পাশে থাকা সাক্ষীগন ও স্থানীয় লোকজন আগাইয়া আসিলে ১নং বিবাদী হুমকি দেয় এই ঘটনা নিয়ে যদি কোন প্রকার মামলা মোকদ্দমা করি তাহলে তোদের বাড়ি ঘর আগুন দিয়ে জালাইয়া চিরদিনের জন্য দেশ ছাড়া করিয়া দিব বলিয়া চলিয়া যায়। বিবাদীরা চলিয়া গেলে সাক্ষীরা আহতদের আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। আমি ও অন্যান্য আহতরা বর্তমানে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে

Leave a Reply