সিরাজদিখান প্রতিনিধি | মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার
মুন্সিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেত্রী মুন্সিগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনের রাজনীতিতে এক পরিচিত ও সক্রিয় মুখ।
রাজনৈতিক জীবন ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট
জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক:
বর্তমান পদবী: সদস্য, মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা, সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপি।
অতীত অভিজ্ঞতা: দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে।
পারিবারিক ঐতিহ্য: তার পিতা হাজী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মোল্লা ছিলেন কেয়াইন ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
স্বামী সম্রাট ইকবালের উত্তরসূরি
লাকীর রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন তার প্রয়াত স্বামী, রাজপথের লড়াকু সৈনিক মরহুম সম্রাট ইকবাল হোসেন ভূইয়া। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে ৫১টি মামলার শিকার হওয়া এবং বারবার কারাবরণ করা এই নেতার মৃত্যুর পর, দলের হাল ধরতে আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে নামেন লাকী।
আন্দোলন ও সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। ‘অগ্নিকন্যা’ হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী প্রতিটি সাংগঠনিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সরাসরি মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
”আমি যদি সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হিসেবে সেবা করার সুযোগ পাই, তবে আমার প্রধান লক্ষ্য হবে নারী ক্ষমতায়ন। বিশেষ করে অবহেলিত ও পিছিয়ে থাকা নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে আমি কাজ করে যাবো।”
— জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী
কেন তাকে চায় তৃণমূল?
সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলার সাধারণ নারী ও রাজনৈতিক কর্মীদের মতে:
মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা: তিনি শুধু পদের জন্য নয়, বরং নিয়মিত সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন।
যোগ্য নেতৃত্ব: পারিবারিক রাজনৈতিক শিক্ষা এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তাকে একজন দক্ষ নেত্রী হিসেবে গড়ে তুলেছে।
নারীদের কণ্ঠস্বর: স্থানীয় নারীরা মনে করেন, লাকীর মতো একজন সাহসী নেত্রীই সংসদে তাদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।
Leave a Reply