মোঃরফিকুল ইসলাম মিঠু ঢাকা।।
রাজধানী উত্তরা ৪ নং সেক্টরে ২ নাম্বার রোডে ১৩ নাম্বার বাড়ীর নীচতলায় চাকরি দেওয়ার নামে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণা করে অর্ধকোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উত্তরার একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আকর্ষণীয় বেতনের বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণ-তরুণীদের ফাঁদে ফেলছিল তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তরার শাকিল ও নাঈম নামে দুই ব্যক্তি একটি বাসা ভাড়া নিয়ে উত্তরার সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছে। তারা ম্যানেজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, সিকিউরিটি গার্ড ও কল সেন্টার অপারেটর নিয়োগের কথা বলে বিজ্ঞাপন প্রচার করত। বিজ্ঞাপনে ব্যাংক, এটিএম বুথ, গার্মেন্টস, বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রোরেল ও বিদেশি প্রকল্পে চাকরির লোভ দেখানো হতো।
প্রথম ধাপে রেজিস্ট্রেশনের নামে ৬০০ টাকা নেওয়া হয়। পরে ইন্টারভিউয়ের কথা বলে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর বেতন না দিয়ে নতুন চাকরিপ্রার্থী সংগ্রহের মাধ্যমে কমিশন আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। এটিকেই ‘বেতন’ হিসেবে দেখানো হতো।
এক ভুক্তভোগী (২০) জানান, কল সেন্টারের চাকরির কথা বলে তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। টাকা ফেরত চাইলে তাকে একটি কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়, যেখানে লেখা ছিল—টাকা ফেরত দাবি করা যাবে না। তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয় এবং এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়।
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মো. হুমায়ুন আজাদ (১৮) বলেন, “আমাকে মার্কেটিংয়ের চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১১ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে আমি আরও দুইজনকে নিয়ে আসি। তারা পালিয়ে গেলে পুরো প্রতারণা বুঝতে পারি। প্রতিবাদ করায় আমাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ট্রেনিংয়ের নামে চাকরিপ্রার্থীদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হতো এবং ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। ভয়ভীতি দেখিয়ে কাউকে মুখ খুলতে দেওয়া হতো না।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত এক বছরে দুই থেকে আড়াই হাজার চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে নিয়োগ ফরম পূরণের মাধ্যমে এই চক্রটি অর্ধকোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে।
এ ঘটনায় কয়েকজন ভুক্তভোগী উত্তরা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বলেন, “সিকিউরিটি সার্ভিসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাকিলের সঙ্গে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
Leave a Reply