কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:হুমায়ুন কবির সূর্য
আলু চাষে স্মরণকালের ভয়াবহ লোকসান, হিমাগার মালিকদের দফায় দফায় ভাড়া বৃদ্ধি এবং ন্যায্য কমিশন বন্ধের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুড়িগ্রাম। শনিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম-রংপুর সড়কের কাঁঠালবাড়ী বাজার এলাকায় জেলা স্বনির্ভর আলু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ব্যানারে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অমীমাংসিত বিষয়সমূহ:
লোকসানের মুখে কৃষক: ২০২৫ সালে আলুর চরম দরপতনে চাষীরা লাখ লাখ টাকা লোকসানের শিকার হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
কমিশন নিয়ে টালবাহানা: চাষীদের দাবি, জেলায় ৬টি হিমাগারের মধ্যে মাত্র একটি আংশিক কমিশন দিলেও বাকি ৫টি মালিকপক্ষ কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
ভাড়া বৃদ্ধির শঙ্কা: ২০২৬ সালের নতুন মৌসুমে হিমাগার ভাড়া আরও বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে মালিকপক্ষ, যা কৃষকদের জন্য “মরার উপর খাঁড়ার ঘা” হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশের চিত্র
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা এলাকার বাবর কোল্ড স্টোরেজ ও সেকেন্দার হিমাগারের সামনে অবস্থান নেন। সমাবেশে বক্তারা হিমাগার মালিকদের একগুঁয়েমির তীব্র সমালোচনা করেন।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য:
সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোলেমান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
”বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব এবং ক্ষমতায় এসেই কৃষিঋণ মওকুফ করছে। অথচ হিমাগার মালিকরা সিন্ডিকেট করে আমাদের গলা টিপে ধরার চেষ্টা করছে। আমরা এমনিতেই পথে বসেছি, এখন তারা আমাদের নিঃস্ব করার পরিকল্পনা করছে।”
সমিতির সভাপতি দুলাল ব্যাপারী আলুর বস্তা প্রতি ভাড়া পূর্বের ন্যায় ৩৫০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বলেন, “আমাদের ন্যায্য কমিশন না দিলে এবং ভাড়া বাড়ানো হলে কৃষকরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”
মালিকপক্ষের অবস্থান
অভিযোগের বিষয়ে হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা জানান, প্রশাসনের সাথে তাদের আলোচনা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা কমিশন দিতে অপারগ। ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ভাড়া বাড়লে তারাও সেই পথেই হাঁটবেন।
সারসংক্ষেপ: কুড়িগ্রামের আলু চাষীরা এখন দিশেহারা। একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে হিমাগার সিন্ডিকেটের চাপ—সব মিলিয়ে জেলাজুড়ে আলু চাষীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা এই সংকট নিরসনে দ্রুত জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply