বিশেষ প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ:
সরকারি অফিস বা জনপ্রতিনিধিদের কার্যালয় মানেই সাধারণ মানুষের মনে ভেসে ওঠে নানা ভোগান্তি ও দীর্ঘসূত্রতার চিত্র।
কিন্তু সেই চেনা ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে জনসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ১৪ নং করপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সুযোগ্য চেয়ারম্যান জনাব এস.এম. হাবিবুর রহমান।
তার আন্তরিকতা, সততা ও কর্মদক্ষতায় করপাড়া ইউনিয়ন আজ গোপালগঞ্জ জেলার অন্যতম একটি আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা: সাধারণ মানুষের আস্থার ঠিকানা
করপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রতিদিন সকাল থেকেই লক্ষ্য করা যায় সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা মানুষ তাদের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, ওয়ারিশ কায়েম সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, কিংবা চারিত্রিক সার্টিফিকেটের জন্য এখানে আসেন।
এছাড়াও গ্রামীণ ছোটখাটো পারিবারিক ও সামাজিক বিবাদ মীমাংসার আশায় প্রতিদিন বহু মানুষ ভিড় জমান চেয়ারম্যানের দপ্তরে।
সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সব ধরণের সমস্যার কথা অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শোনেন চেয়ারম্যান এস.এম. হাবিবুর রহমান।
কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের চক্র ছাড়াই সরাসরি সাধারণ মানুষ তার সাথে কথা বলে তাৎক্ষণিক সমাধান পাচ্ছেন।
মাঠপর্যায়ে ক্লান্তিহীন ছুটে চলা
শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দপ্তরে বসে ফাইল স্বাক্ষর করাই নয়, জনাব এস.এম. হাবিবুর রহমানের মূল শক্তির জায়গা হলো তার মাঠপর্যায়ের সংযোগ।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি করপাড়া ইউনিয়নের মানুষের কল্যাণে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করেছেন।
এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন, কালভার্ট নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কারসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, শুধু অফিস চলাকালীন সময়ই নয়, গভীর রাতেও যদি কোনো সাধারণ নাগরিক বিপদে পড়েন বা এলাকার কোথাও কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়, খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে ছুটে যান এই জনবান্ধব চেয়ারম্যান।
সরকারি সুবিধা পৌঁছে যাচ্ছে প্রকৃত হিতাধিকারীদের দ্বারে
চেয়ারম্যান এস.এম. হাবিবুর রহমানের অন্যতম বড় সাফল্য হলো সরকারি সুযোগ-সুবিধা বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা ভিজিডি-ভিজিএফ-এর মতো সরকারি অনুদানগুলো যেন কোনো প্রকার অনিয়ম ছাড়াই প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে তিনি কঠোর নজরদারি রাখছেন। ডিজিটাল সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তার তথ্য ও প্রযুক্তি বান্ধব নানা পদক্ষেপ ইতিমধ্যে সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক চেয়ারম্যান
গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়া বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। করপাড়া ইউনিয়নে এই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে চেয়ারম্যানের দক্ষ বিচার-সালিশ ব্যবস্থার মাধ্যমে। শতভাগ নিরপেক্ষতা ও সততার সাথে তিনি স্থানীয় কোন্দল ও সামাজিক বিবাদগুলো সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করে দিচ্ছেন, যার ফলে এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে।
এলাকার একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন,
“আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব শুধু কাগজে-কলমে নন, মনে-প্রাণে একজন প্রকৃত জনসেবক। যেকোনো বিপদে-আপদে তার কাছে আমরা সব সময় নির্ভয়ে চলে আসতে পারি। তিনি আমাদের অভিভাবকের মতো।”
ভবিষ্যৎ করপাড়া ও তারুণ্যের প্রেরণা
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, জনাব এস.এম. হাবিবুর রহমানের এই নিষ্ঠা, কর্মোদ্দীপনা ও নিরলস জনসেবা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাজনীতি ও সমাজসেবাকে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
তার এমন দক্ষ, দূরদর্শী ও জনবান্ধব নেতৃত্বে করপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ আগামী দিনে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল, বৈষম্যহীন এবং আধুনিক উন্নত ইউনিয়নে পরিণত হবে—এটাই এখন পুরো এলাকাবাসীর দৃঢ় প্রত্যাশা।
Leave a Reply