নিজস্ব প্রতিবেদক : মাহবুবুর রহমান গোপালগঞ্জ
শীতের আমেজ আর বাঙালির চিরচায়িত লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গোপালগঞ্জের সরকারি কলেজে বসেছে বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব। ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এই উৎসবে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা আর ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটেছে। তবে উৎসবের সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছেন কলেজের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের (ফাইনাল ইয়ার) মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়া সামিরা।ইতিহাসের পাতায় নয়, প্লেটে ফিরল ঐতিহ্যইতিহাসের শিক্ষার্থী হিসেবে সুমাইয়া সামিরা বরাবরই শেকড় সন্ধানী। আর সেই ছোঁয়া লেগেছে তার পিঠার স্টলটিতেও। স্টলে গিয়ে দেখা যায়, সামিরা ও তার সহপাঠীরা পরম মমতায় তৈরি করছেন ভাপা,চিতই পিঠা, আনদশা পিঠা,শিয়াই পিঠা,রশপান পিঠা, পাটিসাপটা আর, হৃদয় হরন পিঠারমতো জিভে জল আনা সব পিঠা। শুধু পিঠা প্রদর্শনই নয়, মাটির চুলা আর গ্রামীণ অনুষঙ্গে স্টলটি সাজিয়ে তিনি যেন ক্যাম্পাসেই এক টুকরো গ্রাম বাংলা তুলে ধরেছেন।নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সুমাইয়া সামিরা বলেন:”ইতিহাসের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি সবসময় আমাদের শেকড় ও সংস্কৃতিকে অনুভব করার চেষ্টা করি। আধুনিক ফাস্টফুডের যুগে আমাদের ঐতিহ্যবাহী পিঠাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসে এটাই হয়তো আমার শেষ বড় উৎসব, তাই চেয়েছি নিজের হাতের তৈরি পিঠা দিয়ে সবার মনে এক টুকরো আনন্দ বিলিয়ে দিতে।”উৎসবের আমেজ ও বৈচিত্র্যসকাল থেকেই বাসন্তী ও লাল-সাদা সাজে সেজেছেন শিক্ষার্থীরা। সামিরার স্টলটিতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্শনার্থীরা গরম-গরম পিঠা খেয়ে সামিরার হাতের জাদুর প্রশংসা করছেন। তার স্টলে থাকা নকশি পিঠা আর দুধপুলি ছিল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতিক্রিয়াসামিরার সহপাঠীরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি এমন আয়োজনে সামিরার নেতৃত্ব তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। কলেজের শিক্ষকরাও এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “সুমাইয়া সামিরাদের মতো উদ্যমী শিক্ষার্থীরাই আমাদের লোকজ সংস্কৃতিকে আগামী প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে রাখবে।”উৎসবের হাইলাইটস:পিঠার সম্ভার: প্রায় অর্ধশত প্রজাতির দেশীয় পিঠার প্রদর্শনী ও বিক্রয়।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: পিঠার স্বাদের সাথে চলছে লোকসংগীত ও কবিতা আবৃত্তি।মিলনমেলা: ইতিহাস বিভাগসহ সকল বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের সরব উপস্থিতি।বিকাল গড়াতেই মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। ধোঁয়া ওঠা পিঠার স্বাদ আর আড্ডায় সরকারি কলেজ গোপালগঞ্জ ক্যাম্পাস আজ এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যার অন্যতম কারিগর হয়ে রইলেন সুমাইয়া সামিরা।

Leave a Reply