কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | হুমায়ুন কবির সূর্য
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে এক অনন্য শর্তে মিলছে ইফতার ও রাতের খাবার। শর্তটি হলো— সারাদিনে অন্তত একটি ‘ভালো কাজ’ করতে হবে। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের মাধ্যমে অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করছে রাজধানীভিত্তিক সংগঠন ‘ভালো কাজের হোটেল’।
ছিন্নমূল ও নিম্নবিত্তের মুখে হাসি
সরেজমিনে চিলমারী উপজেলার রমনা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত ছিন্নমূল নারী, পুরুষ ও শিশুর উপচে পড়া ভিড়। তাদের চোখে-মুখে খাবারের নিশ্চয়তার তৃপ্তি। প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাধিক মানুষের জন্য এখানে বিরিয়ানি, মুরগির রোস্ট, খেজুর ও শরবতের মতো পুষ্টিকর ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমটি বর্তমানে নিম্নআয়ের ও পথচারী মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভালো কাজের এক একটি গল্প
বিনামূল্যে খাবার পেতে আসা মানুষগুলো শুনিয়েছেন তাদের সারাদিনের ‘ভালো কাজের’ গল্প।
রমনা রেলওয়ে বস্তির নসিমন বেওয়া জানান, এক পা কাটা নারীকে তিনি হাসপাতালে নিয়ে গেছেন এবং তার ক্ষত পরিষ্কার করে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন।
রমনা ব্যাপারী পাড়ার ছালমা বেগম জানান, এক অসুস্থ বৃদ্ধকে গোসল করিয়ে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি আজ ইফতার পেয়েছেন।
এমন ছোট ছোট মানবিক কাজের পুরস্কার হিসেবেই সম্মান ও আদরের সাথে তাদের হাতে খাবার তুলে দিচ্ছে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।
যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে এই কার্যক্রম
সংগঠনের সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক নুর আলম রাঙা জানান, এটি মূলত ‘ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ’ নামক সংগঠনের একটি শাখা। বর্তমানে ৪ হাজার ১০০ জন সদস্য প্রতিদিন মাত্র ১০ টাকা করে সঞ্চয় করে এই তহবিলে দান করেন। তাদের এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানেই কুড়িগ্রামসহ দেশের ৪টি স্থানে (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মাদারীপুর) এই মানবিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্বেচ্ছাসেক লিমন জানান, পুরো রমজান মাস জুড়ে এই ইফতার বিতরণ অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় যুবক সাব্বিরসহ সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, দুর্যোগপ্রবণ কুড়িগ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য এই ‘ভালো কাজের হোটেল’ একটি বড় সহায়।
সারসংক্ষেপ: মানবিকতা ও আহারের এই মেলবন্ধন কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে পরোপকারের মানসিকতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংগঠনের সদস্যরা আশাবাদী যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
Leave a Reply