মোঃ জোনায়েদ হোসেন
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
পবিত্র “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” এর মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের প্রবেশ তোরণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬ খ্রি.) বিকাল ৩টায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, প্রশাসক, জেলা পরিষদ, কিশোরগঞ্জ। তাঁর উপস্থিতিতে প্রবেশ তোরণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল মো: মাজহারুল ইসলাম, মাননীয় সংসদ সদস্য, কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর)। তবে হোসেনপুর উপজেলায় পূর্বনির্ধারিত সরকারি কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর পক্ষ থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার জামায়াতের আমিরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, তরুণ সমাজ এবং শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন এলাকার বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ শুধু কিশোরগঞ্জ নয়, পুরো দেশের একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের বিশাল জামাতকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে। তাই এই মাঠের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন সময়ের দাবি।
তারা আরও বলেন, প্রবেশ তোরণ নির্মাণের মাধ্যমে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং দর্শনার্থী ও মুসল্লিদের জন্য একটি নান্দনিক পরিবেশ তৈরি হবে। এটি এলাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ধর্মীয় পর্যটনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠির শেষে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের সার্বিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। জেলা পরিষদ, কিশোরগঞ্জের উদ্যোগ ও বাস্তবায়নে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

Leave a Reply