সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের মাগুরালি (চাঁদপুর) গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে রোববার (২ আগস্ট) সকাল প্রায় ১০টার দিকে মাগুরালি (চাঁদপুর) গ্রামে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে।
আহতদের মধ্যে মাগুরালি (চাঁদপুর) গ্রামের মৃত আবুল হাজীর ছেলে সাইদুল ইসলাম (৫২), সাইদুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৫), আবুল বিশ্বাসের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৮), আবু বক্করের ছেলে আরাফাত হোসেন (২২) বর্তমানে দেবহাটা সখিপুর
অপরদিকে প্রতিপক্ষের রাফিজা খাতুন (৩৫), খাদিজা খাতুন (৪০), নুর নাহার (৩০), সাব্বির (২৪), গোলাম ওরেশ (৬০) ও মো. আজিজ (৬৫) কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের হলেও তা মীমাংসা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহত সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রতিপক্ষরা আমার জমির উপর দিয়ে চলাচলের পথ তৈরি করা চেষ্টা করছে। আমি বাধা দিলে সেখান থেকে আমার উপর দিন দিন চড়াও হতে থাকে। রবিবার সকালে আমি সেখানে গেলে প্রতিপক্ষরা আমার উপর আক্রমন করে। এসময় আমার ডাক ও চিৎকারে আমার ছেলে সাইফুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, আরাফাত হোসেন, মিয়ারাজ, শাওন সহ কয়েকজন ঠেকাইতে গেলে প্রতিপক্ষ সুজন, হামিদ, কাদের, গোলাম ওয়ারেশ, রাফিজা খাতুন, খাদিজা খাতুন, নুর নাহার, সাব্বির, আজিজ সহ কয়েকজন ব্যক্তি তাদের লাঠি সোটা দিয়ে ও ইট ছুড়ে মেরে গুরুতর আহত করে। এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।
কালিগঞ্জ থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply