সিরাজদিখান প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর আগে এবং ছুটির পর স্কুলের ভেতরেই নিয়মিতভাবে কোচিং পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এ কোচিং কার্যক্রম বহু বছর ধরে চলে আসছে এবং চলতি বছরেও তা অব্যাহত রয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, সহকারী প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে এবং প্রধান শিক্ষকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কোচিং পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কারণে প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি হলে কিছুদিনের জন্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে আবার চালু করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রায় সব শিক্ষকই স্কুলের ভেতরে কোচিং পরিচালনা করেন। তাদের মধ্যে সহকারী প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিনের একটি ব্যাচে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও অন্য শিক্ষকদের ব্যাচে গড়ে ১০ থেকে ১৫ জনসহ ইংরেজি শিক্ষক অভি নামে এক শিক্ষকের ব্যাচে ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয় বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে যেসব শিক্ষকের নাম এসেছে তারা হলন,সহকারী প্রধান শিক্ষক (গণিত) কফিল উদ্দিন, গণিতের শিক্ষক বিশ্বনাথ সরকার, ইংরেজির শিক্ষক স্বপন চন্দ্র সরকার, গণিতের শিক্ষক মিজানুর রহমান, গণিতের শিক্ষক চান মাহমুদ বক্স, গণিতের শিক্ষক জোবায়ের হোসেন এবং গণিতের শিক্ষক ভাস্কর রায়।
এদিকে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি বিদ্যালয়ে কোচিং কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন।
এ সময় তিনি বলেন, “এই বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে আরও মনোযোগী করতে হবে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদান নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।”
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকগণসহ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে ফোন করা হলে কেউ ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
Leave a Reply