আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফলিয়া নতুন বাজার সংলগ্ন বারাশিয়া নদীতে যাতায়াতের একমাত্র সরকারি রাস্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকান ঘর তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এর ফলে চরম জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং নদীতে যাতায়াতের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণ করে রাস্তাটি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সরজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফলিয়া গ্রামের নূরুল মোল্লার ছেলে সোহাগ মোল্লা এবং একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতার হোসেন খালাসী, খলিল মোল্লা গংদের বিরুদ্ধে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সোহাগ মোল্লা জনগণের চলাচলের সরকারি ইটের সোলিং রাস্তা আংশিক দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করেছেন।
এদিকে, ফলিয়া গ্রামের আকতার হোসেন খালাসী ও খলিল মোল্লা গং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গায় জোরপূর্বক দোকান ঘর তুলে বারাশিয়া নদীতে যাতায়াতের প্রধান ও একমাত্র রাস্তাটি জবরদস্তি করে রেখেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ব্যক্তিসুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে এই জবরদখল চালানো হয়েছে। এর ফলে শুধু ফলিয়া গ্রাম নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর এবং সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, এই রাস্তাটি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বারাশিয়া নদীতে ফলিয়া গ্রামের শত শত মানুষ যাতায়াত করতেন। এছাড়া কয়েকটি গ্রামের হাজারো কৃষকের পাট জাগ দেওয়া (কাঁচা পাট পচন), গবাদিপশুকে গোসল করানো এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য এই রাস্তাটিই ছিল একমাত্র ভরসা।
জনগণের জোর দাবি:
কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের চলাচলের স্বার্থে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অতি দ্রুত আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে বারাশিয়া নদীতে যাতায়াতের পথটি অবমুক্ত করার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে এই অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন

Leave a Reply