কে এম শাকীর, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী ও নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বিকাল ৫টায় দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঝরনার মোড়ে গিয়ে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়। এ সময় তারা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘোষিত কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন সৈয়দপুর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য শাকিল আহমেদ এবং মাঈন মিয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফারহাদ হোসেন, গোলাম আজম, মিল্লাত হোসেনসহ ৯টি ইউনিয়ন থেকে আগত নেতাকর্মীরা।
প্রতিবাদ সভায় মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, উপজেলা ছাত্রদলের ঘোষিত কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এছাড়া কমিটি গঠনে অনিয়মের পাশাপাশি অছাত্র ও বিবাহিতদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি বলেন, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে কোনো কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হলে তা সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে দুর্বল করবে। কমিটিতে ‘থাই ভিসা’ ধারণকারী ও ফ্যাসিস্টের দোসরদের স্থান দেওয়া হয়েছে। ঢাকার চোরাগোপ্তা গলি থেকে অর্থের বিনিময়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাই বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও সক্রিয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম তাজুল ইসলাম ডালিম বলেন, “কমিটি ঢাকা থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে ত্যাগী নেতাকর্মীরা বাদ পড়তে পারেন।” কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন কি না—জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “শুনেছি যে ঢাকা থেকে কমিটি হচ্ছে, তবে কারা থাকতেছে সেভাবে জানি না।”
সৈয়দপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাব্বি বলেন, “আমরা যাচাই-বাছাই করেই কমিটি দিয়েছি।” সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতিকে সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিবকে সভাপতি করার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, জ্যেষ্ঠতা (Seniority) বিবেচনা করে এটি করা হয়েছে। ৮১টি ওয়ার্ড কমিটি ও সম্মেলন ছাড়া ঢাকায় বসে রাতারাতি কমিটি করার বিষয়ে তিনি বলেন, “৫ই আগস্টের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে সেভাবেই কমিটি করা হয়েছে। আমরা ৯টি ইউনিয়নের দু-একজন বাদে সবার মতামত নিয়েছি।”
সাংগঠনিক সম্পাদক রোমিও অভিযোগ করে বলেন, “৫ই আগস্টের আগে যারা মিটিং-মিছিলে ছিল না, তারা কীভাবে এত বড় দায়িত্ব পায়?” এই প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার পরিবার কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা।
এদিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নবগঠিত ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা রাসেল প্রামাণিক বিয়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, “আমি বিবাহ করিনি। তারা যদি পারে, তবে প্রমাণ করুক।”
Leave a Reply