আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মো. আলমগীর কবিরকে ফেসবুকে একটি ধর্ষণকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশ ও তা সংশোধন করার জেরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তা চেয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি নং- ১১৯, তারিখ: ০৩/০৮/২০২৬) দায়ের করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
থানায় দায়ের করা জিডি ও সাংবাদিক আলমগীর কবিরের সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার কোড়ামারী গ্রামে প্রাণ কোম্পানির এসআর সাজ্জাদ আলমের বোনের বাড়িতে আলফাডাঙ্গার শৈলমারী গ্রামের কুদ্দুস মোল্যার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে জনৈক মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন।
পরবর্তীতে বিষয়টি সাংবাদিক আলমগীর কবিরের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে, বসুন্ধরা গ্রুপের এসআর জয় কুন্ডু ওই কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গণধর্ষণ করেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন।
তদন্ত ও তথ্যে পরিবর্তন
সংবাদ প্রকাশের পর গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এএসপি (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান আলফাডাঙ্গা আসেন এবং বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিককে জানান যে, ঘটনার সাথে বসুন্ধরা গ্রুপের জয় কুন্ডু নয়, বরং প্রাণ কোম্পানির এসআর সাজ্জাদ আলম জড়িত। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও বক্তব্য প্রদান করে রিপোর্টটি সংশোধন করতে অনুরোধ করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাংবাদিক আলমগীর কবির তৎক্ষণাৎ তাঁর ফেসবুক আইডিতে সাজ্জাদ আলমের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে সংশোধিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
প্রাণনাশের হুমকি ও আতঙ্ক:
সংশোধিত প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই গত ৩ আগস্ট বিকেলে ৪টা ৪৩ মিনিটে এবং পরবর্তীতে ৫টা ৩০ মিনিটে +৮৮০২৯৬৯৭৬৮০৫০৭ নম্বর থেকে সাংবাদিক আলমগীর কবিরের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে দুটি কল আসে। ফোন করা ব্যক্তি তাঁকে ফেসবুক থেকে আপলোডকৃত পোস্ট অবিলম্বে ডিলিট করার হুমকি দেন। পোস্ট মুছে না ফেললে তাঁকে এবং তাঁর পুরো পরিবারকে হত্যা করা হবে বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন ওই সাংবাদিক ও তাঁর পরিবার। হুমকিদাতারা যেকোনো সময় তাঁর জানমালের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ:
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট সাধারণ ডায়েরী করার পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন গণমাধ্যমকর্মী ও তাঁর পরিবার এ ধরনের প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়ে
Leave a Reply