প্রতিনিধি : মোঃ ইব্রাহিম হোসেন,
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের হল থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের পিটিয়ে বের করে দিয়েছে ছাত্রদল। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় মেহেদী নামে ছাত্রশিবিরের এক কর্মী আহত হয়েছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক তামিম মাতুব্বর এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোতাহার হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় তাদের কাঁধে ব্যাগ ও কম্পিউটার নিয়ে হল ছাড়তে দেখা যায়।

পরে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে নিয়ে যান। এরপর একটি মিছিল নিয়ে মোহাম্মদপুর থানার সামনে দিয়ে এবং ধানমন্ডি ২৭ নম্বর ক্রসিং পার হয়ে কর্মসূচি শেষ করেন তারা। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ইনস্টিটিউটের সিকিউরিটি গার্ড খশিয়ার জানান, রাত ১২টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ইনস্টিটিউটের সামনের সিটি হসপিটালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রশিবিরের এক সদস্য বলেন, “হলের ভেতরে আমাদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মারপিট চালায় এবং জোরপূর্বক বের করে দেয়। মধ্যরাতে এখন আমরা কোথায় যাব? হল থেকে আমাদের ১৫ জনের মতো শিক্ষার্থীকে তারা বের হয়ে যেতে বাধ্য করেছে।”
সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক তামিম মাতুব্বর বলেন, প্রথমে হল থেকে রোহান নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে বের করতে গেলে শিবির কর্মীরা বাধা দেয়। পরে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে রোহান পালিয়ে যায়।
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোতাহার হোসেন বলেন, “মঙ্গলবার সারাদিন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আমরা খবর পাই, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের হলে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। পরে আমরা তাদের হল থেকে বের করে দিয়েছি।”
এদিকে খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও দুই পরিদর্শক ঘটনাস্থলে আসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় তারা কিছুক্ষণ পর ফিরে যান। বর্তমানে ইনস্টিটিউটের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে থানা পুলিশের কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Leave a Reply