আলমগীর কবির,
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পাইকারি ফলের ব্যবসায় বকেয়া ও আত্মসাৎকৃত টাকা পরিশোধ না করে উল্টো ব্যবসায়ী ও অংশীদারকে প্রাণনাশের হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী দুই ব্যবসায়ী।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আলফাডাঙ্গা উপজেলায় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সুরুজ শেখ ও তাঁর সহযোগীরা উপস্থিত থেকে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধার এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—আলফাডাঙ্গা উপজেলার নগরকান্দা এলাকার মিকাইল সরদারের দুই ছেলে মো. রাব্বি সরদার (২০) ও মো. পলাশ সরদার (২৪)।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ১০টায় আলফাডাঙ্গা বাজারের বাকাইল রোডে অবস্থিত অভিযুক্তদের ফলের দোকানে প্রথম ঘটনাটি ঘটে। বোয়ালমারী উপজেলার সহস্রাইল গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে এবং পাইকারি ফল ব্যবসায়ী মো. সুরুজ শেখ থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানান, তিনি গত প্রায় দুই মাস ধরে অভিযুক্ত রাব্বি ও পলাশের ফলের দোকানে পাইকারিভাবে বিভিন্ন ফল সরবরাহ করে আসছিলেন। দীর্ঘ দিনেও ফলের দাম পরিশোধ না করে তাঁরা তালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁদের কাছে সুরুজ শেখের পাওনা মোট ১,৩৭,০০০ (এক লক্ষ সাইত্রিশ হাজার) টাকা জমা হয়। ঘটনার দিন সকালে সুরুজ শেখ তাঁর পাওনা টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় তারা বাদীর ওপর চড়াও হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ভবিষ্যতে টাকা চাইতে গেলে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। এ ঘটনার সময় মো. ফরিদ মোল্যা ও মো. আরফিন সরদারসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে এর আগের দিন, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল অনুমান ৪টায়, আলফাডাঙ্গা থানাধীন নগরকান্দা এলাকায় অভিযুক্তদের নিজ বসতবাড়িতে। কামারগ্রামের মো. আবু তালেব মুন্সীর ছেলে মো. হাবিব মুন্সী জানান, অভিযুক্ত মো. পলাশ সরদার ও মো. রাব্বি সরদারের সাথে গত দুই মাস ধরে তাঁর যৌথ ব্যবসা ছিল। এই দুই মাসের ব্যবসায় অভিযুক্তরা দোকান থেকে হাবিব মুন্সি’র ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে হাবিব মুন্সী হিসাব চাইলে তাঁরা ব্যবসা বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে গত ৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় কয়েকজন সাক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে হাবিব মুন্সী বিবাদীদের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা ও হিসাব চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীরা তাঁকে ও সাক্ষীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মো. জনি মোল্যা, মো. ইসলাম মোল্যা ও মো. আরফিন সরদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ব্যবসায়িক প্রতারণা এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের প্রাণনাশের হুমকি
Leave a Reply