মোঃরফিকুল ইসলাম মিঠু।।
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ জুড়ে অবৈধ বিদেশিদের কারণে বাড়ছে নানাবিধ অপরাধ। বিভিন্ন পন্থায় তারা বাংলাদেশে এসে নানামুখী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছে এসব বিদেশিরা। ঢাকানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে অবস্থান করা বিদেশি নাগরিকরা আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা অনলাইন জুয়া, প্রতারণা, জাল টাকা, ও মাদকের মতো নানামূখী অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদেশি নাগরিকরা দেশে মাদক কারবারের সাথে জড়িত। তারা বাংলাদেশে এসে অপরাধের নেটওয়ার্ক তৈরি করছেন। দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৩৪ হাজার বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে এসে অবস্থান করছেন। বিশেষ করে উত্তরা এলাকায় চীনা নাগরিকদের উপদ্রব আগের চেয়ে অনেকাংশেই বেড়েছে। বিদেশিদের বিরুদ্ধে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অহরহ অভিযোগ আসছে। রাজধানী ছাড়াও দেশের পর্যটন এলাকা গুলোতে অবৈধ বিদেশিদের তৎপরতা আগের চেয়ে বেড়েছে। বেড়েছে তাদের তৎপরতাও।
আন্তর্জাতিক অনলাইন সংঘবদ্ধ প্রতারক সংঘবদ্ধ চক্রের শক্তিশালী ঘাটী বাংলাদেশে। সম্প্রতি রাজধানীর অভিজাত উত্তরায় বিদেশির রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছে পুলিশ। উত্তরা, গুলশান ও বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় প্রায়ই অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খবর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্বস্ত তথ্য সূত্রের।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছে, অভিযানে অনেকে ধরা পড়লেও জামিনে বের হয়ে তারা আবার কোন না কোন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। বিদেশীদের মধ্যে অনেকেই সাজা খাটছেন, আবার সাজার মেয়াদ শেষ হলেও নিজ দেশের আগ্রহ না থাকায় কারাগারেই রয়ে গেছেন অনেকে। আগে আফ্রিকার নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ বেশি থাকলেও এখন চীনা, তাইওয়ানিজ
ও নাইজেরিয়ার নাগরিকদের অপকর্ম বেশি দেখা যাচ্ছে। তাদের বড় অংশই অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।

দেশের অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বিদেশিদের সহজে বিশ্বাস করে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদেশি একাধিক সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা প্রতারণা, অনলাইন জুয়া, ভয়াবহ মাদক কারবারি, বিয়ে করে নারী পাচার ও জাল টাকা, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবসা বেছে নিয়েছেন।
ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, অনলাইন জুয়াসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৩৪ হাজার বিদেশি অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন কারাগারে বন্দী আছেন প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ জন।
এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ, ২০২৬ দিবাগত রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১০ নম্বর সেক্টরের ১/এ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাসায় (লায়লা গার্ডেন) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শরীর থেকে মন আলাদা করার মতো ভয়ানক নেশাজাতীয় কৃত্রিম মাদক ‘কেটামিন’সহ
লি বিন, জু ঝি ও চুনসেং ইয়াং নামে তিনজন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেন। এসময় তাদের নিকট থেকে ৬ কেজি ৩০০ গ্রাম কেটামিন মাদক, মাদকদ্রব্য তৈরির বিপুল কাঁচামাল, কেটামিন মাদক তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিকার, ফানেল, হিটার, ডিজিটাল মিটার, ঝাড়, অ্যাপ্রোন, গ্লাভস, মাস্কসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, চীনা নাগরিকেরা ব্যথানাশক এবং স্লিম হওয়ার ওষুধ দিয়ে বিশেষ মাধ্যমে প্রক্রিয়া করে কেটামিন মাদক তৈরি করত। এই চক্রের সঙ্গে একটি চীনা কমিউনিটি সম্পৃক্ত। দেশ-বিদেশের চীনা নাগরিকদের মাঝে এই মাদক বিক্রি করা হতো।
চীনা নাগরিকেরা বিশেষ কায়দায় সাউন্ড বক্স, খেলনার মধ্যে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে বিদেশে পাচার করে আসছিল।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটক, শিক্ষার্থী বা ব্যবসার ভিসায় তারা দেশে ঢোকে। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও অনেকে থেকে যান এবং পরে অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়েন।
এদিকে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে উত্তরায় অবস্থিত ‘মুনসুন কোর্ট ইয়ার্ড’ হোটেলের ৯ তলার ৯০৫ নম্বর রুমে তিন চীনা নাগরিকের সাথে দেখা করতে আসেন লি জিংকিয়াং (২৫) নামের এক চীনা নাগরিক। সেখানে তিনি অতিরিক্ত মদ্যপান ও মাতলামি করেন। পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে তার বন্ধুরা তাকে ওই রুমে রেখেই অন্য রুমে গিয়ে ঘুমান। পরদিন (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নাস্তা খাওয়ার জন্য বন্ধুরা তাকে ডাকতে গিয়ে ফ্লোরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। অপর দিকে ঠিক একই দিনে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের অভিজাত মেরিনো রয়্যাল হোটেল থেকেও আরও এক চীনা নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হোটেলের আইটি ও এইচআর ম্যানেজার মোদাচ্ছেরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় একটি টেক্সটাইল বা ফেব্রিকস প্রদর্শনীতে অংশ নিতে আসা ওই চীনা দলটি হোটেলটিতে অবস্থান করছিল। গেল ৫ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে সহকর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই চীনা নাগরিককে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হোটেল মালিক এ প্রতিবেদককে বলেন, চীনা নাগরিকদের যন্ত্রণায় উত্তরার মানুষ অতিষ্ঠ। তারা এই দেশে ব্যবসার পাশাপাশি মাদক, জুয়া, নারী পাচার, জাল টাকাসহ নানাবিধ অপরাধ মূলজ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তাদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে হবে।
সম্প্রতি উত্তরার পৃথক আবাসিক হোটেল থেকে দুই বিদেশি নাগরিকের এ ধরনের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ব্যাবসায়ী মহল, স্থানীয় লোকজন ও সেক্টরবাসীর মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ সাংবাদিকদের জানান, অনেক বিদেশি নাগরিক মাদক কারবারে জড়িত। তারা বাংলাদেশে এসে অপরাধের নেটওয়ার্ক তৈরি করছেন।
ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদ মুনসুর এ প্রতিবেদককে বলেন, মারা যাওয়া দুই চীনা নাগরিক কবে এবং কেন ঢাকায় এসেছিলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় আনা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশের অন্যান্য থানা মামলাও রয়েছে। এবিষয়ে মৃত ব্যক্তিদের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল রহস্য (কারণ) জানা যাবে।
ডিএমপি গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, বিদেশী নাগরিকরা বাংলাদেশে আসার পর নিজের পরিচয় গোপন রাখতে অনেকেই আসল পাসপোর্ট ছিড়ে কিংবা আগুনে পুড়ে নষ্ট করে ফেলে। এরপর অভিজাত এলাকায় হোটেল বা বাসা ভাড়া নিয়ে দেশি চক্রের সাহায্যে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি কক্সবাজারের একটি রিসোর্ট থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে তাইওয়ানিজ ও চীনা নাগরিক রয়েছে। সেখান থেকে আরও চারজন চীনা নাগরিক পালিয়ে যায়। তদন্তে জানা যায়, তিন শতাধিক চীনা ও তাইওয়ানিজ নাগরিক সেখানে থেকে নানা প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।
অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিদেশি নাগরিক অনলাইন স্ক্যামিংয়ের সাথে জড়িত থাকার দায়ে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার জালালাবাদ কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের প্রবাসী একটি ৮ তলা ভবন থেকে অন্তত ৬৩ জনকে আটক করেছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ আভিযানিক দল ।
খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক ৬৩ জনের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, নেপাল, লাওসসহ বিভিন্ন দেশের কয়েকজন নাগরিকও আছেন। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।
এঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, আটককৃতদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিকও রয়েছেন। তারা কী উদ্দেশে বাংলাদেশে এসেছেন, ভবনটিতে কেন অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন- এসব বিষয় যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া তাদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার ধরন এবং তারা কোন প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, সেসব তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫ জন লাওসের নাগরিক। এ ছাড়া পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন এবং নেপাল ও ভিয়েতনামের ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, ১টি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, মনিটর, পেনড্রাইভ, সিমকার্ডসহ বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৩টি পাকিস্তানি ও ১টি কম্বোডিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্রও জব্দ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ প্রতিবেদককে জানান, তারা মূলত বিভিন্ন ওয়েবসাইট হ্যাক করে। এরপর বিভিন্ন জনকে অনলাইন জুয়া খেলার অফার দেয় এবং চাকরির ভুয়া ফাঁদ তৈরি করে। লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চলায় তারা সেখানে কাজগুলো করতে না পেরে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে।
বিদেশিদের অপরাধের নানা ধরণ: পুলিশের মতে, বিদেশি অপরাধীরা মাদক ছাড়াও জাল ডলার, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, অনলাইন ক্যাসিনো ও মানব পাচারের মতো অপরাধে যুক্ত। বিশেষ করে উত্তরা এলাকায় চীনা নাগরিকদের উপদ্রব আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। তারা গভীর রাত পর্যন্ত উত্তরায় গড়ে উঠা মদের বার গুলোতে নারী পুরুষ নিয়ে আড্ডা দেওয়া ও বিশৃঙ্খলা করা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। অলিগলিতে কয়েকশ চীনা নাগরিককে সন্দেহজনকভাবে ভিডিও বা ব্লগিং করতে দেখে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জাগছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা সেখানে বাসা ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের বেঙ্গল হোটেল থেকে এক চীনা নাগরিকের লাশ পাওয়া যায়। একই দিনে ৪ নম্বর সেক্টরের মেরিনো হোটেল থেকেও আরেক চীনা নাগরিকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
কারাগারে যত বিদেশি বন্দী : পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১০ আগস্ট পর্যন্ত দুই বছরে রাজধানী ঢাকায় নানা অপরাধে চীনের অন্তত ৪৫ থেকে ৫৩ জন নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরই ধরা পড়েছে ২০ থেকে ২৪ জন। এ ছাড়া খুনের আসামিসহ দেশটির আরও কয়েকজন নাগরিককে খুঁজছে পুলিশ। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী আছেন ৩৮৫ থেকে ৩৯৩ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভুয়া লটারি, এটিএম জালিয়াতি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। অনেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করায় ধরা পড়েছেন।
এদিকে দেশের কারা দপ্তর সূত্রগুলো বলছে, বিদেশি বন্দীদের মধ্যে ১৬৭ জনের সাজার মেয়াদ শেষ হলেও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় তারা কারাগারেই থেকে গেছেন।
অনলাইন স্ক্যামিং কী: বিশ্বজুড়ে বহুল আলোচিত অনলাইন স্ক্যামিং হলো ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে অর্থ, ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল। প্রতারকরা সাধারণত ভুয়া পরিচয়, মিথ্যা তথ্য, লোভনীয় অফার, চাকরির প্রস্তাব, বিনিয়োগে অতিরিক্ত লাভের আশ্বাস কিংবা জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে মানুষকে ফাঁদে ফেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইমেইল, মোবাইল ফোন, ভুয়া ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এসব প্রতারণার অন্যতম মাধ্যম।
এব্যাপারে বিদেশি নাগরিকদের নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের হাত থেকে দেশও দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণার্থে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) , ডিএমপি কমিশনারসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিভিন্ন মহলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নগরবাসী ও দেশের সর্বস্তরের জনগণ।
Leave a Reply