1. admin@deshbanglakhabor.com : admin :
  2. e.mominbd@gmail.com : MOMIN :
  3. samira01606@gmail.com : SAMIRA : Sumaya Samira
  4. farhanaenterprise18@gmail.com : SHOFIKUL :
       
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কুড়িগ্রামে ৪৫০জন নারী ও কিশোরীকে ডিগনিটি কিট বিতরণ ২২ লাখ টাকার হিসাব কোথায়? তদন্ত কমিটি গঠনের পরও অভিযুক্তের ডিউটি, কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে জবাবদিহি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন কুড়িগ্রামে দেড় কিলোমিটার জুড়ে নদী সংরক্ষণ বাঁধে লাউচাষের ধুম এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে আলফাডাঙ্গায় বিএনপির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ কেবিনে তিন দিন চিকিৎসার পর মৃত্যু, নেই ভর্তি-মৃত্যুর রেকর্ড! মঠবাড়িয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধসহ নানা অনিয়ম৫ ফার্মেসিকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায়হট্টগোল করে ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার লুট কুড়িগ্রামে পুকুরে ডুবে খালাতো ভাইবোনের মৃত্যু বটতলায় ট্রাফিক পুলিশের কড়া অভিযান: হেলমেটবিহীন চালকদের জরিমানা, যাচাই করা হলো লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্রশহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত অভিযানে ট্রাফিক পুলিশ শার্শার বাগআঁচড়ায় জামায়াতের ২০ পরিবারের ৬০ জন বিএনপিতে

২২ লাখ টাকার হিসাব কোথায়? তদন্ত কমিটি গঠনের পরও অভিযুক্তের ডিউটি, কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে জবাবদিহি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়েছেন

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সরকারি রাজস্ব গরমিলের অভিযোগ ঘিরে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৬ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তদন্তে সেই অঙ্ক বেড়ে প্রায় ২২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে জরুরি বিভাগের এক বছরের গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার খাতা না পাওয়ার ঘটনায় পুরো বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হলেও অভিযুক্ত সিনিয়র নার্স উদয় শংকর পাল এখনো দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তাধীন অবস্থায় একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কীভাবে একই ধরনের দায়িত্বে বহাল থাকছেন?
হিসাবের খাতা খুলতেই বেরিয়ে আসছে নতুন অঙ্ক
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২৩ সাল থেকে প্রায় তিন বছর জরুরি বিভাগের নার্স ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উদয় শংকর পাল। ওই সময়ে জরুরি বিভাগের টিকিট, অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চার্জ, কেবিন ভাড়াসহ বিভিন্ন খাতের রাজস্ব আদায় ও হিসাব ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ের সরকারি রাজস্ব আদায়ের হিসাব যাচাই করতে গিয়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকার গরমিলের তথ্য সামনে আসে। পরে তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে গরমিলের পরিমাণ আরও বেড়ে প্রায় ২২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় নথিপত্র, হিসাব ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাইয়ের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
এক বছরের রেজিস্টার নেই, তাহলে হিসাব মিলবে কীভাবে?
তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে জরুরি বিভাগের একটি বছরের রেজিস্টার খাতা না পাওয়া। সরকারি রাজস্ব আদায় ও রোগী সংক্রান্ত তথ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি কীভাবে নিখোঁজ হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


অভিযোগ রয়েছে, পুরোনো রেজিস্টারের পরিবর্তে নতুন রেজিস্টার ব্যবহারের মাধ্যমে হিসাব সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এটি প্রশাসনিক অবহেলা নাকি হিসাব গোপনের কোনো চেষ্টা, তা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।
তদন্ত চলছে, অভিযুক্তের দায়িত্বও চলছে!
সরকারি অর্থের বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগের পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তির দায়িত্ব পালন নিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির দায়িত্ব পরিবর্তন, গুরুত্বপূর্ণ নথিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল।
সদর হাসপাতালের নার্স ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
শুধু একজন নয়, তদন্তের আওতায় আসছে আরও নাম
হাসপাতাল সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক হিসাব-নিকাশে আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিভিন্ন বিল-ভাউচার ও রাজস্ব লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বকালীন কার্যক্রম তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
টাকা ফেরত দিলেই কি শেষ হবে দায়?
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূর মো. শামসুল আলম জানিয়েছেন, সরকারি অর্থ ফেরতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।
তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে অনিয়ম প্রমাণিত হলে শুধু টাকা ফেরত নিলেই কি দায় শেষ হবে? নাকি জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
চাই পূর্ণাঙ্গ অডিট, শুধু রেজিস্টার নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত চিত্র বের করতে শুধু একটি রেজিস্টার নয়, সংশ্লিষ্ট সময়ের সব নথি যাচাই করা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে—
জরুরি বিভাগের টিকিট
ওটি চার্জের হিসাব
কেবিন ভাড়ার রেকর্ড
রোগী ভর্তি ও ছাড়পত্রের তথ্য
রসিদ ও ভাউচার
ব্যাংক জমার তথ্য
সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া চালান
দৈনিক আয়-ব্যয়ের হিসাব
এসব তথ্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই প্রকৃত হিসাব বেরিয়ে আসবে।
তিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কিশোরগঞ্জবাসী
কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে কথিত ২২ লাখ টাকার রাজস্ব গরমিল, এক বছরের রেজিস্টার নিখোঁজ এবং তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তের দায়িত্ব পালন নিয়ে এখন তিনটি প্রশ্ন ঘুরছে—

১. ২২ লাখ টাকার প্রকৃত হিসাব কোথায়?

২. জরুরি বিভাগের এক বছরের রেজিস্টার গেল কোথায়?

৩. তদন্ত চলার মধ্যেও অভিযুক্ত ব্যক্তি কীভাবে দায়িত্বে বহাল আছেন?


এখন সবার নজর তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। নিরপেক্ষ তদন্তই নির্ধারণ করবে, এটি শুধুই হিসাবের ভুল নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও বড় কোনো অনিয়মের চিত্র।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর