সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে ‘তথ্য গায়েবের’ অভিযোগ, তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা দাবি
মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মৃত রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পরও দেওয়া হয়নি মৃত্যুসনদ, এমনকি রোগীর ভর্তি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও রহস্যজনকভাবে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মৃত রোগীর ছোট ভাই মো. আব্দুল খালেক নিদান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চিকনীরচর গ্রামের মো. কাঞ্চন মিয়া (৬২) গত ২৭ আগস্ট শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫১২৩ নম্বর কেবিনে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ৩০ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রোগীর চিকিৎসার কাগজপত্র ও মৃত্যুসনদ চাইলে তা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক শাখায় যোগাযোগ করলে তাদের জানানো হয়, ‘কাঞ্চন মিয়া’ নামে কোনো রোগী ভর্তি ছিলেন না এবং তাঁর মৃত্যুর কোনো রেকর্ডও পাওয়া যাচ্ছে না।
মৃতের ভাই মো. আব্দুল খালেক নিদান অভিযোগ করে বলেন, “একজন রোগী তিন দিন হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর ভর্তি ও মৃত্যুর কোনো তথ্য না থাকা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এটি দায়িত্বে অবহেলা, তথ্য গোপন কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের অংশ কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসার প্রমাণ, স্বজনদের উপস্থিতি এবং অন্যান্য তথ্য রয়েছে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগপত্রে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার অফিসে অভিযোগ দিয়ে গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
Leave a Reply