শেফালী আক্তার রাখি মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে মাদ্রাসা চত্বরে জড়ো হন। এ সময় তারা সাবেক অধ্যক্ষ এম.এ বারী হাওলাদারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দেন এবং তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।
স্থানীয় ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, সাবেক অধ্যক্ষ এম.এ বারী হাওলাদার গত ২৯ জুলাই অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার পর তিনি বিনা বেতনে অধ্যক্ষ পদে স্বপদে বহাল থাকার জন্য নানা তৎপরতা শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
পরবর্তীতে গত ২ সেপ্টেম্বর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অ.দা.) অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এম.এ বারীকে পরবর্তী এক বছরের জন্য বিনা বেতনে অধ্যক্ষ পদে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই নিয়োগ আদেশের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয় এবং তারা আন্দোলনে নামেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এম.এ বারী হাওলাদার বলেন, “কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী আমাকে বিনা বেতনে নিয়োগ দিয়েছে। আমি মাদ্রাসাটির বৈধ অধ্যক্ষ। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আমাকে দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছে।”
অন্যদিকে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গাজী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “এম.এ বারী হাওলাদার দায়িত্বে থাকাকালে চরম অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতি করেছেন। সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাকে আর মাদ্রাসায় দেখতে চায় না। তিনি বলপূর্বক মাদ্রাসায় ফিরলে চরম বিশৃঙ্খলা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। যেকোনো মূল্যে তাকে প্রতিহত করা হবে।”
Leave a Reply