1. admin@deshbanglakhabor.com : admin :
  2. e.mominbd@gmail.com : MOMIN :
  3. samira01606@gmail.com : SAMIRA : Sumaya Samira
  4. farhanaenterprise18@gmail.com : SHOFIKUL :
       
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মধুমতির ভয়াল গ্রাসে বিলীন হওয়ার শঙ্কা: আলফাডাঙ্গায় চরখোলাবাড়িয়া ও দিগনগর রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলের নারী ও কিশোরীরা পেল ডিগনিটি কিট শার্শার বসতপুর গ্রামে ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এশামনিরচিকিৎসায় দরকার প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা কিশোরগঞ্জে নজরুলের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে- আব্দুল হাই শিকদার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ কিশোরগঞ্জে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় কুড়িগ্রামে শিক্ষার্থীদের মাঝে পর্যায়ক্রমে ১০ হাজার কাঁঠাল চারা বিতরণ সৃষ্টির মহালীলায় মানুষ—ক্ষণিকের অতিথি কুড়িগ্রামে ৪৫০জন নারী ও কিশোরীকে ডিগনিটি কিট বিতরণ

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এশামনিরচিকিৎসায় দরকার প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা

  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়েছেন

হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম: ১০-০৯-২০২৬

এগার বছরের এশামনি জটিল লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। চার দেয়ালেই আটকে আছে তার জীবন। একটু হাঁটলেই শ^াসকষ্টে হাঁফিয়ে ওঠে সে। ঠিকমতো খেতেও পারে না। তাকে বাঁচিয়ে রাখতে ব্যয়বহুল লিভার অ্যালবুমিন ইঞ্জেকশন বা ইনফিউশন পুশ করা হচ্ছে। গত ৪ মাস থেকে তার স্বাভাবিক জীবন এখন সু² সুতোয় আটকে আছে। ব্যবয়হুল ও জটিল এই চিকিৎসায় লিভার প্রতিস্থাপনে দরকার প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা। কাচামাল ব্যবসায়ী পিতার পক্ষে বর্তমান চিকিৎসা ব্যয় মেটানোই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে এই বিশাল অংকের টাকা কোথায় পাবে তারা। ফলে অর্থের অভাবে এশামনির বেঁচে থাকাটাই এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা বৃত্তবানরা এগিয়ে আসলে এই শিশুটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।


কুড়িগ্রাম পৌর শহরের রেজিস্ট্রিপাড়ায় শিশু নিকেতন স্কুলের দক্ষিণের দেয়ালের পাশেই স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন কাচামাল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম আহম্মেদ। বড় মেয়ে এশামনি (১১) পিটিআই স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে ইফতি আক্তারের বয়স ৫বছর। দুই মেয়েকে নিয়ে তার স্বপ্ন, সন্তানদেরকে শিক্ষিত করে নিজের পায়ে দাঁড় করাবেন। কিন্তু চার মাস আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাপ পর এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী মারুফা।
এশামনির মা মারুফা ইয়াসমিন জানান, গত চারমাস আগে পিটিআই স্কুল থেকে শিক্ষকগণ আমার বাসায় পিয়ন পাঠিয়ে জানালো এশামনি ক্লাসে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পরেছে। আমরা দ্রæত স্কুলে গিয়ে অচেতন মেয়েকে প্রথমে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসকরা ভর্তি না করায় অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাই। এরমধ্যেই আমার মেয়ের পা, মুখ, মাথা ও পেটে পানি জমে ফুলে ঢোল হয়ে গেছে। মেয়ে আমার কথা বলতে পারছে না। হাসপাতালে টানা ১৬দিন আমাদের থাকতে হয়েছে। সেখানে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে আমার সন্তান লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছে। রোগটি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানিনা। আস্তে আস্তে যখন জানতে পারলাম তখন আমার বুকটা ফেঁটে যাচ্ছিল। আমার প্রথম সন্তান। আমার প্রথম মা ডাক শোনা। এমন ফুটফুটে সুন্দর একটা মেয়ে কিনা মরণব্যাধী একটা রোগে আক্রান্ত। আমরা স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই ছটফট করছিলাম। ভাবছিলাম কিভাবে এর চিকিৎসা করাবো! ওর বাবা কাচামালের ব্যবসার জন্য একটা দোকান বরাদ্দ নিয়েছিল সেটি ছাড়িয়ে নেয়া হল। সেই টাকা দিয়েই চিকিৎসা ব্যয় মেটানো হল। এতেই প্রায় দুই লক্ষ টাকা ব্যয় হল। ওর একটা ইনজেকশন নিতে খরচ লাগে প্রায় ১০ হাজার টাকা। আমরা এত টাকা কোথায় পাবো।
এশামনির বাবা ইব্রাহিম জানান, অসুস্থ্য হলেই তাকে উচ্চমূল্যের অ্যালবুমিন প্রোটিন ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে হয়। এই ইঞ্জেকশন নাকি তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। এখন তার খাওয়া-দাওয়া ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমসিম অবস্থা। ডাক্তাররা জানিয়েছে ভারত কিংবা সিঙ্গাপুর ছাড়া দেশে এর ভালো কোন চিকিৎসা নেই। ভারতের হায়দারাবাদে চিকিৎসা করতে তার লিভার কেটে ফেলে তার মায়ের বা আমার লিভার প্রতিস্থাপন করলে কিছুটা ভালো থাকবে। এছাড়া আর কোন চিকিৎসা নেই। আমি গরীর কাচামালের দোকানদার। জমিজমা নেই। বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। এখন নিজেরা খাবো কি, মেয়ের চিকিৎসা করাবো কিভাবে।


এশামনির দাদি জানান, আমার নাতনী ছোট বেলা থেকেই অসুস্থ্য। গত চারমাস আগে জানা গেল তার কঠিন রোগ হইছে। কিছুদিন পর পর আমার নাতনীটার পেট, পা মুখ ও মাথায় পানি জমে। সারাক্ষণ মাথা ব্যাথা করে। স্বাশকষ্ট হয়। পাতলা পায়খানা করে। সারারাত ঘুমাতে পারে না। ফুটফুটে নাতনিটার দিকে তাকালে খুব কষ্ট হয়।
প্রতিবেশী আনজুম আরা জানান, মেয়েটি ছোট থেকেই অসুস্থ্য। সে লেখাপড়ায় অনেক ভাল। অসুস্থ্য হওয়ার কারণে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বাবা-মা দারিদ্রতার কারণে চিকিৎসা করাতে পারছে না। তার চিকিৎসায় সহযোগিতা করা হলে সে আবার সুস্থ্য হয়ে স্কুলে যেতে পারতো।
এশামনির দাদা জানান, আমার নাতনীর বাবা কাচামালের ব্যবসা করে। তার পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে মেয়েটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।
এশামনি আমাদেরকে জানায়, আমি খাইতে পারি না, খাইলে খারাপ লাগে। হাত-পা ব্যাথা করে বমি লাগে। শরীর ভারী লাগে বসলে উঠতে পারি না। একটুতেই ক্লান্ত হই। হাঁফিয়ে উঠি।
এ ব্যাপারে বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এস.এম আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি জটিল রোগ। তাকে দ্রæততম উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের হায়দারাবাদে জরুরী ভিত্তিতে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়া দরকার। একমাত্র লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার মাধ্যমে তাকে হয়তো চিকিৎসার মাধ্যমে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এজন্য সবমিলিয়ে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। #

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর