মোঃ সোহান শেখ, কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার আশায় বিপুল সংখ্যক মানুষ আবেদন করলেও মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। দীর্ঘ চিকিৎসাগত মূল্যায়ন ও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই শেষে দেখা গেছে, আবেদনকারীদের একটি বড় অংশ প্রতিবন্ধিতার নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারেননি। ফলে অধিকাংশ আবেদন নীতিমালার আওতায় অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। অন্যদিকে শতাধিক ব্যক্তিকে প্রকৃত প্রতিবন্ধী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল খান এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সৌরভ রেজা শিহাবের সমন্বয়ে গঠিত দলের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এ সময় মূল্যায়ন কার্যক্রমে আবেদনকারীরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেন। এরপর তাঁদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসা নথি যাচাই এবং প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ নীতিমালার আলোকে মূল্যায়ন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় কেবল নীতিমালার শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিদেরই প্রকৃত প্রতিবন্ধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক আবেদনকারী দীর্ঘদিনের বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতাকে প্রতিবন্ধিতা হিসেবে উল্লেখ করে আবেদন করেছিলেন। তবে মাঠপর্যায়ের মূল্যায়নে দেখা যায়, এসব সমস্যার অধিকাংশই সরকারি নীতিমালায় প্রতিবন্ধিতার সংজ্ঞার আওতাভুক্ত নয়। ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সৌরভ রেজা শিহাব বলেন, “প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র ও ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। কোনো ব্যক্তির শারীরিক অসুস্থতা থাকলেই তাঁকে প্রতিবন্ধী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। প্রতিটি আবেদন চিকিৎসাগত মূল্যায়ন এবং সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাজা বা কোমরের ব্যথা, ঘাড়ের ব্যথা, পাইলস, জরায়ু অপসারণসহ বিভিন্ন সাধারণ শারীরিক সমস্যাকে প্রতিবন্ধিতা হিসেবে গণ্য করা হয় না। অনেকেই ভুল ধারণা থেকে এসব সমস্যাকে প্রতিবন্ধিতা মনে করে আবেদন করেছেন। কিন্তু প্রচলিত নীতিমালায় এগুলো প্রতিবন্ধিতার আওতাভুক্ত নয়।”
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাছেই পৌঁছে, সে লক্ষ্যেই পুরো যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। যাচাইয়ে যোগ্য বিবেচিত ব্যক্তিদেরই প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র ও ভাতার জন্য সুপারিশ করা হবে বলে তাঁরা জানান।
এ কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply