মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভায় দীর্ঘদিনের পানি সংকট, অনিয়মিত সরবরাহ এবং দুর্গন্ধযুক্ত ও কর্দমাক্ত পানি সরবরাহের সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বী। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে তিনি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে পানি সরবরাহের পাইপলাইনের বিভিন্ন স্থানে ছিদ্রসহ বেশ কিছু ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনা ইউএনওর নজরে আসে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পানি সরবরাহের সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হন। একই সঙ্গে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য নেন।
পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে ক্ষতিগ্রস্ত ও ছিদ্রযুক্ত পাইপ দ্রুত মেরামত, পানির গুণগত মান নিশ্চিত এবং নিয়মিত সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দেন ইউএনও। চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান কাওসার, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার অনেক মানুষ পানি সংকট ও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন। কোথাও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও সরবরাহ করা পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা থাকায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। তাদের প্রত্যাশা, পরিদর্শনের পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা হোক।
এদিকে পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য প্রায় ৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. আতাউর রাব্বী বলেন, গ্রাহকেরা যেন তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান, সেটিই নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় এস্টিমেট প্রস্তুতের জন্য প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে চিহ্নিত সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ শুরু করা হবে।
পৌরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত পাইপলাইন সংস্কার ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ৫৩ কোটি টাকার প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের বিষয়েও প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক। প্রকল্পে অনিয়মের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply