সিরাজদিখান প্রতিনিধি: রোমান হাওলাদার, মুন্সিগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের পাওয়ার ইউজ কো-অর্ডিনেটর মোঃ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজদিখান পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কো-অর্ডিনেটর মোঃ মনিরুজ্জামানকে আবেদন প্রতি ৩ শত টাকা বা তার বেশী ঘুষ না দিলে কোন মিটারের আবেদন গৃহীত হয় না। অভিযুক্ত মনিরুজ্জামানকে ঘুষ না দিলে সে নানা ভাবে গ্রাহকদের হয়রানীর শিকার হতে হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে অথবা তার ঘুষ নীতির বাইরে গেলে আবেদন করে সংযোগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন গ্রাহকরা।এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম দূর্ণীতির অভিযোগ থাকলেও কার্যকরি কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় তার অনিয়মের পরিধি বেড়েই চলেছে।
নাম প্রকাশ না শর্তে সন্তোষপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এক ব্যক্তি তার বাড়ীর জন্য সিরাজদিখান পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস ১৫ টি মিটারের আবেদন করেন। কো-অর্ডিনেটর মোঃ মনিরুজ্জামান তার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন এবং এক পর্যায়ে সে ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ১৩ মিটারের আবেদন গৃহীত করা হয়।
হয়রানীর শিকার ভুক্তভোগী একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ, মাঠ পর্যায় ও সিরাজদিখান পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষের নানা পদে থাকা কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের অবৈধ পন্থায় উপার্জিত টাকার ব্যপারে সংশ্লিষ্ট উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা জানার পরও চুপ থাকার কারণে দিনের পর দিন দিন সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের নানা ভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
সিরাজদিখান পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম, এজিএম (কম), পাওয়ার ইউজ কো-অর্ডিনেটর, ওয়্যারিং (ইন্সপেক্টর) পরিদর্শক, মিটার রিডার, পিসিএমসহ কর্মচারী ও কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। সিরাজদিখান পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মচারী বলেন, কো-অর্ডিনেটর মোঃ মনিরুজ্জামানের অনিয়ম দূর্ণীতির বিষয়ে ডিজিএম জানেন এবং তাকে একাধিকবার বদলী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে স্থানীয় গ্রাহকরা মনে করেন, দূর্ণীতি গ্রস্থ কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের এক স্থান থেকে আরেক স্থানে বদলী করলেই তাদের দুর্ণীতির লাগাম টেনে ধরার সম্ভব নয়, বরং তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণসহ তাদের অর্থ সম্পদের হিসাব এবং অবৈধ সম্পদ ক্রোক করা হলে অনিয়ম দূর্ণীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে সিরাজদিখান পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের মাঠ পর্যায়ে থাকা লাইনম্যানসহ কর্মচারীরা কো-অর্ডিনেটর মোঃ মনিরুজ্জামানের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। ফলে তারা চাইলেও তার ঘুষ ও হযরানী নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন না বলে জানান তারা।
এ ব্যাপারে সিরাজদিখান পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএমকে একাধিকবার ফোন করেও তার সাড়া পাওয়া যায় নি।
সিরাজদিখান পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কো-অর্ডিনেটর মোঃ মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সমূহ অস্বীকার করে অভিযোগকারীদের তার কাছে নিয়ে যেতে বলেন।এবং প্রতিবেদককে ম্যানেজের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
Leave a Reply