আলমগীর কবির, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসানো নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আলফাডাঙ্গার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী জাটিগ্রাম পশুর হাটের বিপরীতে পার্শ্ববর্তী কাশিয়ানী উপজেলার কাঠামবরদস্ত এলাকায় নতুন করে একই দিনে ও সময়ে পাল্টাপাল্টি হাট বসানোর ঘোষণায় সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় দুই উপজেলার জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভৌগোলিকভাবে আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম বাজার এবং কাশিয়ানী উপজেলার কাঠামবরদস্ত এলাকাটি বারাশিয়া নদীর একদম পাশাপাশি এপার-ওপার। বছরের পর বছর ধরে জাটিগ্রাম হাটে রবি ও বুধবার নিয়মিত পশুর হাট বসে আসছে, যা সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি কাঠামবরদস্ত এলাকার কিছু ব্যক্তি বিশেষ প্রতিহিংসামূলকভাবে একই দিন ও সময়ে নতুন করে পশুর হাট বসানোর ঘোষণা দিয়েছে। যাহা
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ফাটলের আশু সম্ভাবনা বিদ্যমান।
স্থানীয় সুধী মহলের মতে, দুই উপজেলার এই সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে শত বছরের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট ছিল। কিন্তু পশুর হাট নিয়ে এই অনড় অবস্থান ও ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত সেই সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে। যেকোনো মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ও জাটিগ্রাম বাজার কমিটির পক্ষে রফিক হোসেন মেম্বার বলেন,
”আমরা দীর্ঘকাল ধরে প্রতিবেশী হিসেবে মিলেমিশে আছি। তারা হাট বসাতেই পারে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু আমাদের নিয়মিত হাটের দিনে ও সময়ে পাল্টাপাল্টি হাট বসানোটা সরাসরি প্রতিহিংসা। এতে শান্তি-শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটবে।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে
জাটিগ্রাম বাজার কমিটি ও সাধারণ এলাকাবাসী বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, কাঠামবরদস্ত এলাকার উদ্যোক্তারা যদি তাদের হাটের দিন পরিবর্তন করেন, তবেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা প্রশমিত হবে।
দাবি ও অনুরোধর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে দুই উপজেলার প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে সুধি মহল মনে করছেন।

বিষয় টি নিরসনে আলফাডাঙ্গা ও কাশিয়ানী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) দ্রুত জরুরি বৈঠকে বসে দিনক্ষণ নির্ধারণের বিষয়টি মীমাংসা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পবিত্র ঈদের আনন্দকে বিষাদে রূপ না দিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করবেন।

Leave a Reply