আলমগীর কবির, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামে ডিগ্রী ফাইনাল ইয়ারের মেধাবী শিক্ষার্থী মোঃ সুমন শেখকে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী। এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী, কিলার, চিহ্নিত চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও ধর্ষক মোঃ হুসাইন শেখ ওরফে হাতকাটা হুসাইন ও তার গংদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।
আজ ২৮ জুন ২০২৬ ইং, রোজ রবিবার বিকেলে উপজেলার বড়ভাগ গ্রামবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন, আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব, নিহতের পিতা আলাউদ্দিন শেখ, বড় ভাই শামীম শেখ, বোন সানজিদা ও সরজিনাসহ
সহপাঠী, টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজম শেখ সহ এলাকার সর্বস্তরের শতশত বিক্ষুব্ধ জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসতা
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুমন শেখ একজন নিরীহ ও মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তার ডিগ্রী ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালীন এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্র তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করবে—তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হাতকাটা হুসাইন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও খুনের মতো জঘন্য অপরাধের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও প্রশাসনের সঠিক নজরদারির অভাবে সে বারবার পার পেয়ে গেছে, যার চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নিয়েছে সুমনের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে।

প্রশাসনের প্রতি আল্টিমেটাম ও ফাঁসির দাবি
মানববন্ধন থেকে নিহতের কান্নায় ভেঙে পড়া মা-বাবা এবং গ্রামবাসী খুনিদের অবিলম্ব গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বক্তারা বলেন:
”আমাদের শান্ত গ্রামকে অপরাধের স্বর্গরাজ্য বানাতে দেওয়া হবে না। হাতকাটা হুসাইন এবং তার এই খুনি চক্রের প্রতিটি সদস্যকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।”

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে আলফাডাঙ্গাসহ পুরো ফরিদপুরে আরও কঠোর ও তীব্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এলাকায় একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিলটি বড়ভাগের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেয়।

Leave a Reply