কে এম শাকীর, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের গাড়াগ্রাম দোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার আগেই স্বাক্ষর করা হাজিরা খাতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্লাসটারের শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এ বিষয়টিকে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বে অবহেলাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে রবিবার (২৬ জুলাই) গাড়াগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯:২২ মিনিটে স্কুলের সকল কক্ষ বন্ধ।

শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে চিৎকার করে বলছে স্যার এখনো আসে নাই। সাংবাদিকের উপস্থিতিতে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার স্কুলে এসে অফিস রুম খুলে দেন। প্রধান শিক্ষক কোথায় আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন শরিফাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেদায়েত স্যারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গেছেন। তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন কিনা জানতে চাইলে ওই সহকারী শিক্ষিকা বলেন নির্মল চন্দ্র স্যার স্কুলে এসে স্বাক্ষর করে চলে গেছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ওই স্কুলের দায়িত্বরত দুইজন শিক্ষকই ওইদিন স্কুলে আসার আগেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন স্কুল শিক্ষকদের হাজিরা খাতার উপস্থিতি স্বাক্ষর সহ নিয়মিতভাবে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে উপস্থিতির তথ্য দেয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা অধিদপ্তর। সেই বিষয়টিকে ভিন্নখাতে ব্যবহার করে চাকুরীবিধি লঙ্ঘন করে স্কুলে উপস্থিতি হওয়ার আগেই স্বাক্ষর করা খাতার ছবি সকাল ০৮ঃ১৮ মিনিটে গ্রুপে পোষ্ট করে দেয়। এ নিয়ে গ্রুপের সকল শিক্ষকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

অনেকেই বলছে গ্রুপ পরিচালনায় ব্যর্থ সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমানের। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি সকাল ৯ টায় আগমন করার কথা থাকলেও সকাল ৮ঃ ১৮ মিনিটে গ্রুপে দেয়া রিপোর্ট পূর্বে স্বাক্ষর করা। আর স্কুলের আগমনের পূর্বেই স্বাক্ষর করা চাকুরীবিধি অনুযায়ী অপরাধ।
এ বিষয়টি উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিককে ভূল তথ্য দেয়ার কথা বলে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের পক্ষ নেন। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হলে সাংবাদিকের কল কেটে দেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ডক্টর মাহমুদা খাতুনের অফিসে কথা বলতে গিয়ে তার দেখা না পেয়ে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে বলেন,ওই শিক্ষকদের কৈফিয়ত তলব করা হবে। তারপর বিধি অনুযায়ী দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply