আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সুমন শেখ (২৪) হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবির পাশাপাশি এবার উল্টো প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় উপজেলার বড়ভাগ গ্রামে পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে সুমন শেখকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সুমন বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছোট ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

আসামিপক্ষের দাবি,
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আসামিপক্ষের লোকজন। এরই সুযোগে তাদের আট থেকে দশটি বাড়িতে ব্যাপক হামলা,লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, হামলাকারীরা শুধু বাড়িঘরই ভাঙচুর করেনি, বরং গবাদিপশু, ধান-চাল ও ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্রসহ সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। অভিযুক্ত হোসাইন শেখের মা ছাহেরা বেগম বলেন, “আমার ছেলেসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। অথচ ঘটনার সময় অনেকে এলাকায় ছিলেন না। মামলার পর আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে তছনছ করা হয়েছে এবং গরু-ছাগলসহ মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে। আমরা হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই, আবার আমাদের ওপর চালানো এই অন্যায়েরও বিচার চাই।”
আসামি শাহাদাৎ শেখের স্ত্রী মর্জিনা বেগমের দাবি, তাদের বাড়ি থেকে গরু, ছাগল ও আসবাবপত্রসহ প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উকিল শেখের স্ত্রী সাজেদা বেগম বলেন, “আইন হাতে তুলে নিয়ে এভাবে বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
নিহত সুমনের পরিবারের বক্তব্য
নিহতের ভাই শামীম শেখ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আনীত ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “হত্যাকাণ্ডের ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ আসামি এখনো ধরা পড়েনি। আমরা চাই পুলিশ দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনুক এবং বিচার নিশ্চিত করুক।”
পুলিশের বক্তব্য
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান বলেন, “হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগটিও গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “কোনো অপরাধের প্রতিকার আরেকটি অপরাধ হতে পারে না। তদন্তে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

Leave a Reply