কে এম শাকীর নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গুণগত মান উন্নয়ন এবং ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমারেসি (এফএলএন) বা মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে নীলফামারীতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ইনোভেশন টীমের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার জন্য নতুন শিক্ষাক্রম ও উদ্ভাবনী পদ্ধতিগুলো মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় হলো একটি শিশুর শিক্ষার আঁতুড়ঘর। তাই তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীল পঠন-পাঠন এবং গণিতের মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত করানোই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য। ফ্লিন বা (এফএলএন) কার্যক্রম কেবল পাঠ্য বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং খেলার ছলে এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক উপকরণের মাধ্যমে আনন্দদায়ক পরিবেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, যোগাযোগ দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা প্রধান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি স্তরে প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিশুদের ভবিষৎ গড়ার মূল ভিত্তি তৈরি হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, তাই এই স্তরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা জাতীয় অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। তিনি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং এবং শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে ইনোভেশন টীমের কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর করতে হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাঁর বক্তব্যে ইনোভেশন টীমের বর্তমান কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঝরে পড়া রোধ এবং শতভাগ শিক্ষার্থীর মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও নিয়মিত পাঠদান পদ্ধতি পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই। সভায় জেলার ইনোভেশন টীমের আহবায়ক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (সৈয়দপুর)মাসুদুল হাসান, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতাউল গনি ওসমানীসহ ইনোভেশন টীমের সদস্যবৃন্দ এবং নির্বাচিত প্রধান শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নিজ নিজ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রস্তাবনা প্রদান করেন। সভা শেষে উপস্থিত সকলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাতন্ত্র গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply