স্টাফ রিপোর্টার
কৃষকদের সরকারি কৃষি সেবা, ভর্তুকি ও প্রণোদনার আওতায় আনতে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরে কৃষক নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিবন্ধিত কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ বা ‘ফার্মার্স কার্ড’। কৃষকদের তথ্য সরকারি ডাটাবেজে সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন কৃষি সহায়তা কার্যক্রমে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করাই এ কার্ডের মূল উদ্দেশ্য।
সম্প্রতি কৃষক কার্ডের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রচারপত্রে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। সেখানে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ১০ ধরনের সুবিধা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সংগ্রহ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, ভর্তুকিমূল্যে কৃষিযন্ত্রপাতি, সরকারি প্রণোদনা, মোবাইলে কৃষি পরামর্শ, কৃষি প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, কৃষি বীমা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুযোগ।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষক কার্ড মূলত একজন কৃষকের সরকারি নিবন্ধিত পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে কৃষকের নাম, ঠিকানা, জমির তথ্য ও চাষাবাদ সম্পর্কিত তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। ফলে কোনো সরকারি প্রণোদনা, বীজ, সার বা কৃষি সহায়তা বিতরণের ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা সহজ হয়।

কৃষক কার্ডধারীরা বিভিন্ন সময় সরকারি ভর্তুকিতে বীজ, সার, কৃষিযন্ত্র ও কৃষি উপকরণ পাওয়ার সুযোগ পান। এছাড়া আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, ফসল ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, রোগবালাই দমন ও বাজারদর সংক্রান্ত তথ্য কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
কৃষক কার্ডের জন্য সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র, সচল মোবাইল নম্বর এবং কৃষিজমির তথ্য প্রয়োজন হয়। স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন ও কার্ড সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষক কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়; বরং কৃষকদের সরকারি কৃষি সেবার সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই প্রকৃত কৃষকদের নিবন্ধনের আওতায় এনে কৃষি সহায়তা কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “কৃষক কার্ড কার্যক্রমের আওতায় সিরাজদিখান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ইতোমধ্যে রশুনিয়া ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। প্রকৃত কৃষকদের কার্ডের আওতায় আনতে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যৌথভাবে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কৃষকদের সঠিক তথ্য দিয়ে এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।” তিনি আরও বলেন, “প্রকৃত কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিস সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের তথ্যভান্ডার আরও সমৃদ্ধ হবে এবং সরকারি কৃষি সহায়তা ও প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ হবে।

Leave a Reply