কে এম শাকীর, নীলফামারী প্রতিনিধি:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জুলাইয়ের হতাহতের ঘটনায় বিচার ত্বরান্বিত করা, শহীদ ওসমান বিন হাদির বিচার, গণভোটের রায়, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার দাবিতে নীলফামারীতে এক গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে নীলফামারী ডিসির মোড় থেকে বের হওয়া এই গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার। মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ডিসির মোড়ে এসে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আমীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার এমপি। এ সময় বক্তব্য রাখেন:
নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য: অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ
নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য: মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি
নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য: হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম
এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল, জামায়াত নেতা মনিরুজ্জামান মন্টু, ডিমলা উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান, জলঢাকা উপজেলা জামায়াতের আমীর মোখলেছুর রহমান মাস্টার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নীলফামারী শহর শাখার সভাপতি সেলিম উদ্দিন এবং নীলফামারী জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক ছাদের হোসেন প্রমুখ।
সমাবেশে জেলা আমীর বলেন,
”২০২৪ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার মাত্র চার দিন পরেই পতন ঘটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।”
বর্তমান সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন,
”গণ-অভ্যুত্থানের আকঙ্ক্ষা থেকে গঠিত সরকার আজ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ধীরগতি নীতি অবলম্বন করছে। অবিলম্বে জুলাইয়ের শহীদদের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
গণসমাবেশে অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু দলের নেতাদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দিয়ে সরকারি সম্পদ অব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, নীলফামারীর সংসদ সদস্যদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।
Leave a Reply