কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত ভোরবেলা ও সন্ধ্যার আগে এ মশা বেশি সক্রিয় থাকে। বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপও বেড়ে যেতে পারে। সাধারণ চিকিৎসায় অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হলেও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম ও হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে জানানো হয়, এডিস মশা সাধারণত ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, বালতি, ড্রাম, মাটির পাত্র, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারিকেলের মালা, কন্টেইনার, মটকা ও ব্যাটারির খোলসহ বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে। তাই এসব স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার পাশাপাশি পরিত্যক্ত পাত্র ও সামগ্রী দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

ব্যবহৃত পাত্রের গায়ে এডিস মশার ডিম লেগে থাকতে পারে। তাই পাত্র শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে না ফেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অব্যবহৃত পানির পাত্র ধ্বংস করে ফেলতে হবে অথবা উল্টে রাখতে হবে, যাতে সেখানে পানি জমতে না পারে।
এডিস মশার জীবনচক্রের বিভিন্ন ধাপের মধ্যে ডিম, লার্ভা, পিউপা ও পূর্ণাঙ্গ মশা রয়েছে। জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে শুরুতেই মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা সম্ভব বলে সচেতনতামূলক প্রচারে জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দিনের বেলা ও রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সচেতনতামূলক এ কার্যক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টদের বার্তা—‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো এডিস মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা। নিজের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন, কোথাও পানি জমতে দেবেন না, সুস্থ থাকুন।’

Leave a Reply