হুমায়ুন কবির সুর্য, কুড়িগ্রাম: ২১-০৮-২৬
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুড়িগ্রামের কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তার নিজ জন্মভূমি জেলা কুড়িগ্রামে শুরু হয়েছে আনন্দ-উল্লাস, আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ। এ খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাৎক্ষনিকভাবে জেলার নেতৃবৃন্দ শহরের বিভিন্ন স্থানে সমবেত হয়ে মিষ্টি বিতরণ করেন। দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এই মহান ত্যাগী নেতার জন্য সকলেই দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পর বিকালে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে বের হয় আনন্দ মিছিল কলেজ মোড়ে সমাবেশে মিলিত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি থেকে বিএনপির মহাসচিব দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ, নিষ্ঠা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং লড়ায়ের মধ্যদিয়ে অর্জন।
কুড়িগ্রাম জেলা শহরের হিঙ্গণরায় সর্দারপাড়ায় জন্ম রুহুল কবির রিজভীর। বাবার নাম আব্দুল কুদ্দুস। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে রিজভী আহমেদ তৃতীয়। শৈশবে কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। পুলিশে কর্মরত বাবার বিভিন্ন জায়গায় চাকুরীর সুবাদে তিনি বগুড়া থেকে এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহীতে ফুপুর বাসায় থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা ও রাজনীতি করেছেন। ছাত্র জীবন থেকে তিনি রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

রিজভী আহমদের কুড়িগ্রাম বাসভবনের কেয়ারটেকার বুলবুল জানান, তিনি আমার দাদু হন। আমি সাড়ে ৩বছর ধরে এখানে কাজ করছি। তিনি খুব ভালো মানুষ। মাঝেমধ্যে এখানে আসেন। এখানে আসলে আমাদের সাথে খুব ভালো ব্যবহার করেন। আমাদের খোঁজখবর নেন। ঢাকায় থাকলে নিয়মিত ফোনে খোঁজ খবর নেন।
মোস্তফা কামাল লিখনজানান, রিজভী আহমেদ আমাদের চাচাতো ভাই। এখানেই তাদের বাড়ী। এখানেই তার জন্ম। সে এখানেই বাড়ী করেছে। শৈশবে কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছে। বাবার চাকুরীর সুবাদে এখান থেকে নানাবাড়ি বগুড়ায় চলে যান। সেখান থেকে এসএসসি পাশ করেছে। সেখান থেকে সে রাজশাহীতে ফুপুর বাসায় চলে যায়। সেখান থেকে রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছে। রাজনীতি করেছে। ছোটবেলা থেকেই সে রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। তারা দুই ভাই চার বোন। সকলেই এখন বগুড়াতেই আছেন। রিজভী ভাই যখন কুড়িগ্রামে আসেন তখন ফাঁক পেলেই আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে এসে সকলের খোঁজ খবর নেন। উনি খুব ভালো মানুষ। আমরা শুনলাম যে ওনাকে মহাসচীবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এতে আমরা অত্যন্ত খুশি। সবাই খুশি। তিনি রাজনীতির জন্য জীবটা উৎসর্গ করেছে।

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আমাদের দলের অহংকার। আমরা কুড়িগ্রামের মানুষ হিসেবে তাকে গর্ব করার যথেষ্ট কারণ খুঁজে পেয়েছি। আমাদের দলের চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থারেক রহমান তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ হিসেবে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাই। রিজভী আহমদের মত মানুষ আমাদের এই পশ্চাৎপদ এলাকা থেকে সংগ্রাম করতে করতে আজকে দলের শীর্ষ পর্যায়ে নীতি নির্ধারণী ফোরাম এবং সেই সাথে ভারপ্রাপ্ত মহাসচীব হওয়া এটা আমাদের বিশাল অর্জন। কারণ এডভোকেট রিজভী আহমেদ শৈশবে এখানে সরকারি স্কুলে পড়েছেন। তার অনেক স্মৃতি কুড়িগ্রামে আছে। কুড়িগ্রামের মানুষ, গ্রামে গঞ্জের মানুষ, শহরের মানুষ তাকে চেনে ব্যক্তিগতভাবে রিজভী আহমেদ অত্যন্ত সদালপী ও হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ। নিরহংকার একজন মানুষ। একটা মানুষ হিসেবে তার যতটুকু গুণ থাকা দরকার সব গুণই তারমধ্যে আছে। বিশেষ করে আমি যখন তার সাথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ১৯৮৪ সালের ২২ ডিসেম্বর দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে শাহজাহান সিরাজ আর হকার আব্দুল আজিজ আর তার সাথে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে জয়ী হয়ে ফিরে এসেছেন রিজভী আহমেদ। ডিজিএ্ফআইরা তাকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন কিন্তু আমরা দেখেছি কিভাবে সংগ্রাম করে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ঘুরে আসতে। একজন ছাত্রনেতা পরবর্তীতে ছাত্রদলের সভাপতি, পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতি, দু:সময়ে এক এগারোর রাজনীতি এবং সর্বশেষ ২৪ শের যে গণঅভ্যুত্থান সেই গন অভ্যুত্থানে অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে জিয়া পরিবারের আস্থার প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের মানুষকে পথ দেখিয়েছিলেন রিজভী ভাই। আমরা বিশ্বাস করি রিজভী আহমেদের মতো যোদ্ধারা যতদিন আমাদের সামনে থাকবেন ততদিন গণতন্ত্র এদেশে পথ হারাবে না। যখনই ফ্যাসিবাদ বিরোধী কোন আন্দোলন হবে গণতান্ত্রিক সঙ্কট তৈরি হবে স্বৈরাচার যখন বাংলাদেশের জনগণের বুকে চেপে বসবার উপক্রম হবে তখন রিজভী আহমদের মতো যোদ্ধারা আমাদের পথ দেখাবে। আমরা কৃতজ্ঞ জিয়া পরিবারের প্রতি, আমরা কৃতঞ্জ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সঠিক সময়ে সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমরা আরও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই রিজভী আহমদের মধ্যদিয়ে আমাদের এই অনুন্নত কুড়িগ্রাম জেলাকে একটু উন্নত দেখতে চাই। ইতিমধ্যে তিনি অনেক স্বাক্ষর রেখেছেনঅনেক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ধরলা তৃতীয় সেতু এবং কুড়িগ্রামের অবকাঠামো উন্নয়নে একশ কোটি টাকা উনি এনেদিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি রিজভী আহমেদরা কুড়িগ্রামকে অনেক উপরে নিয়ে যাবেন । দারিদ্রতা লাঘবে ওনার ভূমিকা রাখবেন। নদী ভাঙন রোধ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং চরের মানুষগুলোর জন্যে বিশেষ কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে নাড়া দিবেন এবং সেখান থেকে আমাদের মানুষদের ভালো কিছু ঘটবে। আমি রিজভী আহমদের দীর্ঘায়ু আমনা করি, সফলতা কামনা করি।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, রিজভী আহমেদ তিন থেকে চার বছর কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছিলেন। তার শৈশব এখানেই কেটেছে। সেই শৈশবের টানে বা তার জন্মস্থান, তার বাবার কবরস্থান, তার দাদা এখানে শুয়ে আছেন এসব কারণে নাড়ির টানে তিনি বারবার কুড়িগ্রামে ছুটে আসেন। কুড়িগ্রাম একটা দুর্যোগপূর্ণ এলাকা যখনই দুর্যোগ আসে তখনই তিনি মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান। বন্যা, খরা, নদী ভাঙন বা শীতের সময় তিনি ছুটে আসেন। উনি একজন জাতীয় নেতা। সেতো ১৭বছর পার্টিকে রিপ্রেজেন্ট করেছে এবং আগমিতেও করবে সে। ৬৪ জেলার মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলা দারিদ্রসীমার নীচে অবস্থান করছে। বিশাল চলাঞ্চলে নানান সমস্যা আছে। তিনি এসব সরাসরি নিজেই অবজার্ভ করতে আসেন। দুর্যোগের সময় সরাসরি চরে যান, শীতে আসেন, মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়ান। শেকড়ের টানে বারবার এখানে ছুটে আসেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আমরা আশা করছি রিজভী সাহেব আগামীতেও কুড়িগ্রামের মানুষের কাছে কৃতি সন্তান হিসেবে থাকবেন। কুড়িগ্রামের মানুষের পাশে সবসময় পাশে থাকবেন।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, এরশাদ বা হাসিনা, কোন স্বৈরাচারের রক্ত চক্ষুই জাতীয়তাবাদী আন্দোলন থেকে তাকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে নি। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছেন, জেলে বন্দি হবেন জেনেও পার্টি অফিসে ছোট্ট কক্ষে একায় কাটিয়েছেন দু বছরের বেশী । ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু করে রাজপথের আপোষহীন লড়াইয়ে নানা চড়াই উৎরাত পেরিয়ে, এখন তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বে। রুহুল কবির রিজভী যেন হার না মারা এক জীবন্ত কিংবদন্তী।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডভোকেট রুহুল কবির রিজভীরা যেন কখনো হার মানেন না, বছর বছর এমন নেতা তৈরিও হন না। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যিনি স্বর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন। বুক পেতে দিয়ে গুলি খেয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে জনতার কাছে আবার ফিরে এসেছেন।
এমন নেতা বিএনপির মত প্রধান রাজনৈতিক দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ায় খুশি সারা দেশের মানুষ।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়ায় উৎরাই পার করেছেন রুহুল কবির রিজভী। ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু করেছিলেন জনগনের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে গুলিবৃদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছেন। ১৯৯০-১৯৯১ সালে রাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন। এর পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে মূল দল বিএনপির হাল ধরেছেন।
ছবি : কুড়িগ্রামে রিজভীর বাড়ি
২) মিষ্টিমুখ করছে নেতা কর্মী সাধারণ মানুষ
Leave a Reply