1. admin@deshbanglakhabor.com : admin :
  2. e.mominbd@gmail.com : MOMIN :
  3. samira01606@gmail.com : SAMIRA : Sumaya Samira
  4. farhanaenterprise18@gmail.com : SHOFIKUL :
       
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মারিয়াকে উন্নয়ন, সেবা ও জবাবদিহিতার মডেল ইউনিয়নে গড়ার প্রত্যয় মোস্তাফিজের ৮নং মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফিজের আত্মপ্রকাশ আলফাডাঙ্গায় পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ: চাচার মামলায় ভাতিজার পরিবারে অবরুদ্ধ জীবন, টয়লেট-রান্নাঘর নির্মাণেও বাধা কুড়িগ্রামে দুই বৃদ্ধ মা-মেয়ের টিকে থাকার লড়াই‘আগে মা ভিক্ষা করি খাওয়াইছে, এখন আমি ভিক্ষা করি মাকে খাওয়াই’ শার্শায় গভীর রাতে পুলিশের অভিযান, ২০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার পানি জমলেই বিপদ, ডেঙ্গু ছড়াবে দ্রুত’—এডিস নিধনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বানমোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল কলমের কালি বৃথা যায়নি জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে জনতার বিজয় কাশিয়ানীতে মরিশাস প্রবাসী আকাশ মিয়ার সন্তানের সুস্থতা ও নতুন ভবনে প্রবেশ উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত আশ্রমে হামলা-ভাঙচুর, জোর করে তালা!জায়গা-সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ৭০ বছরের সভাপতি মঠবাড়িয়ায় জেলা প্রশাসকের দিনব্যাপী সরেজমিন পরিদর্শন বাগআঁচড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামে দুই বৃদ্ধ মা-মেয়ের টিকে থাকার লড়াই‘আগে মা ভিক্ষা করি খাওয়াইছে, এখন আমি ভিক্ষা করি মাকে খাওয়াই’

  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৭ বার পড়েছেন

হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম: ১৬-০৯-২০২৬

কুড়িগ্রামে শতবর্ষী মায়ের সঙ্গী ষাটোর্ধ বয়সী মেয়ে। বিধবা এই দুই নারীর জীবন সংগ্রামের গল্পটি অত্যন্ত হ্নদয়বিদারক। জরাজীর্ণ বসতঘর, অভাব আর নি:সঙ্গতাই তাদের এখন নিত্যসঙ্গী। স্বামী ও ছেলে বোঝা মনে করে সটকে পরেছেন অনেক আগেই। চরম অর্থাভাবের মধ্যেও মেয়ে তার বৃদ্ধ মাকে ফেলে যাননি। ছোট বেলায় মা যেভাবে মেয়েকে আগলে রেখেছিলেন, এখন ঠিক সেভাবেই মাকে আগলে রেখেছেন মেয়ে। প্রতিদিন মাইলের পর মাইল হেঁটে মানুষের কাছে হাত পেতে যা পেয়েছেন তাই দিয়ে মায়ের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন তিনি


কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের দিগদারী গ্রামের পঞ্চয়েত পাড়ায় বসবাস করছেন শতবর্ষী সাজিমন বেওয়া। তার সঙ্গি এখন স্বামী পরিত্যক্তা ৬২ বছরের ছোট মেয়ে ছকিনা খাতুন। এক সময় পাশর্^বর্তী কুমারপাড়ায় বসবাস করতেন সাজিমন বেওয়া। ৩ মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে ছিল সুখের সংসার। তার স্বামী উমর আলী পদ্মপাতা সংগ্রহ করে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতেন। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে মৃত্যু হয় তার। এরপর মারা যায় তার বড় মেয়ে। সংসারে তখন প্রচন্ড অভাব। একমাত্র ছেলে মাকে ফেলে বউকে নিয়ে দূরে সড়ে যায়। দ্বিতীয় মেয়ে বিয়ের পর আর মায়ের খোঁজখবর নেয়া বন্ধ করে। এদিকে ছোট মেয়ে ছকিনার স্বামী আব্দুল লতিফ আচার ফেরী করে বিক্রি করতেন। বিয়ের ৬/৭বছর পর তিনি সেই যে কাজের কথা বলে বাইরে চলে গেলেন, তারপর আর ফিরে আসেননি। কুমারপাড়ায় অন্যের জমিতে থাকায় তাদেরকে একসময় তাড়িয়ে দেয়া হয়। এখন মৃত: বড় মেয়ের ছেলে রাশিদুল ইসলাম তার নিজস্ব কেনা ৬শতক জমির মধ্যে একটা ছাপড়া তুলে নানী আর খালাকে থাকতে দিয়েছে। সেখানেই সেই ভাঙ্গাচুড়া ছাপড়া ঘরে রাত কাটছে বৃদ্ধ মা ও মেয়ের। নেই কোন বৈদ্যুতিক লাইন, অস্বাস্থ্যকর লেট্রিন আর নলকুপের পানি ব্যবহার করছেন তারা।


টানাপোড়ন আর অনিশ্চয়তার মধ্যে এই দুই নারী শেষ বয়সেও মানুষের মুখাপেক্ষি হয়ে আছেন। ঝড়-বৃষ্টি, প্রচন্ড খরা ও গড়মে বিশ্রাম নেয়ার কোন সুযোগ নেই। শীতে কাঁপতে কাঁপতে শহর ছেড়ে গ্রামে, গ্রাম ছেড়ে শহরে মানুষের দাঁড়ে দাঁড়ে হাত পেতে খাবারের সংকুলান করতে হয়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়ে ছকিনা বেওয়া (৬২) জানান, আগে মা আমাকে ভিক্ষা করি খাওয়াইছে, এখন আমি ভিক্ষা করি আনি আমার মাকে খাওয়াচ্ছি। ভিক্ষা পেলে খাই, না পেলে না খায়া থাকি। অনেক কষ্টে আমরা দিন পার করি।


এদিকে বয়সের ভারে নুয়ে পরা সাজিমন বেওয়া (৯৯) এখন কানে ঠিকমতো শুনতে পান না। অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটতেও পারেন না। একটুতেই হাঁফিয়ে ওঠেন তিনি। অনেক সময় আপন মনে জড়িয়ে জড়িয়ে কথাও বলেন। জীবন সংগ্রামে চরম অর্থকষ্টের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই নারী মধ্য বয়সে স্বামীকে হারিয়েছেন। একাই ভিক্ষাবৃত্তি করে ৪ সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। এখন তিনি বয়সের ভাড়ে অচল। ছোট মেয়েই তার একমাত্র ভরসা। সাজিমন বেওয়া আমাদের জানালেন, ‘বাবা খাবার পাই না, গাও কাঁপে। হাত দুটো কাঁপে। কাপড় চোপড় নাই।’ তিনি ইশারায় আমাদের হাত দুটো দেখালেন।
সাজিমনের মৃত: বড় মেয়ের ছেলে রাশিদুল ইসলাম জানান, উনি আমার নানী হয়, তার কোন থাকার জায়গা নাই। আমি ৬শতক জমি কিনে বাড়ি করেছি। সেখানে নানী ও ছোট খালার থাকার জন্য একটা ছাপড়া তুলে দিয়েছি। আমার একজন মামা আছে তিনি কোন খোঁজ খবর নেন না। আমি দিনমজুরী করে খাই। নিজে ঠিকমতো চলতে পারি না। ফলে নানীকে সাহায্য করতে পারি না। খালা ভিক্ষা করে এনে নানীকে খাওয়ায়। খুব কষ্টে আছে তারা।
প্রতিবেশী ময়মনা বেগম জানান, মা-মেয়ে দুজনেই বয়স্ক। এদের কিছুই নাই। হাট-বাজারে বিভিন্নজনের কাছে একটা আলু, পিঁয়াজ বা বেগুন ভিক্ষা করি নিয়া আসি সেটাই রান্না করি খায়। অবস্থা খুবই খারাপ।


এ ব্যাপারে নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি জানান, সামান্য বয়স্ক ও বিধবা ভাতার ১৪শ’ টাকায় তারা আসলে চলতে পারেন না। সংসারে কোন পুরুষ মানুষ নাই। দুজনেই বয়সের ভাড়ে এখন ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। আমরা যতটুকু পারছি সহযোগিতা করছি। এখন দেশ-বিদেশের অবস্থাপন্ন ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে এই দুই বৃদ্ধ নারী শেষ বয়সে একটু সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবেন।#

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর