1. admin@deshbanglakhabor.com : admin :
  2. e.mominbd@gmail.com : MOMIN :
  3. samira01606@gmail.com : SAMIRA : Sumaya Samira
  4. farhanaenterprise18@gmail.com : SHOFIKUL :
       
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
জাতীয় দৈনিক অর্থদৃষ্টির জেলা প্রতিনিধির উপর সন্ত্রাসী হামলা!! আলফাডাঙ্গায় পানাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি’র নির্বাচন স্থগিত ও কারণ দর্শানোর নোটিশ তারাগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফলাফল প্রকাশ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতায় প্রশাসনের প্রতি বাড়ছে জনসাধারণের আস্থা কুড়িগ্রাম সীমান্তে ২১ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ তরুণ সমাজের ধ্বংসযাত্রা: নেতা জেতে, জাতি হারে পোনা এম.এ খালেক মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম এম.এ খালেকের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত আলফাডাঙ্গায় ১০ পিস ইয়াবাসহ মাদকবিক্রেতা গ্রেফতার, আদালতে সোপর্দ কিশোরগঞ্জে দুই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ নীলফামারীতে মাছ ধরতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু মোহাম্মদপুরে কৃষি প্রনোদনা বিতরণ

আবার হবে দেখা, এ দেখাই শেষ নয় : মুখোশের আড়ালে মানুষ

  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ৬৩ বার পড়েছেন

লেখক~ কলামিস্ট
মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ।

মানুষের জীবন মূলত সম্পর্ক, আস্থা ও দায়িত্ববোধের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। সমাজের প্রতিটি স্তরে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের প্রতি অন্যরা নির্ভর করে, বিশ্বাস রাখে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে পাশে পেতে চায়। একজন দায়িত্ববান, দায়িত্বশীল ও আস্থাভাজন ব্যক্তি শুধু নিজের পরিবার বা কর্মক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নন, তিনি সমাজের কাছেও এক ধরনের আশ্রয়স্থল। কিন্তু এই আস্থা ও নির্ভরতার জায়গাটিই কখনও কখনও কিছু মানুষের স্বার্থসিদ্ধির মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।
প্রবাদ আছে—“আবার হবে দেখা, এ দেখাই শেষ দেখা নয় তো।” এই ছোট্ট বাক্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে জীবনের এক গভীর বাস্তবতা। মানুষ চলে যায়, সময় বদলে যায়, অবস্থান পরিবর্তন হয়; কিন্তু কর্ম, আচরণ ও স্মৃতি থেকে যায়। আজ যিনি ক্ষমতার জোরে, কৌশলের আড়ালে কিংবা প্রতারণার আশ্রয়ে নিজেকে বিজয়ী ভাবছেন, কাল হয়তো তাকেই আবার মানুষের সামনে দাঁড়াতে হবে। তখন মুখোমুখি হতে হবে নিজের কাজের প্রতিফলনের।
সমাজে দায়িত্বশীল মানুষের সংখ্যা কম নয়। তারা নীরবে কাজ করেন, অন্যের উপকার করেন, বিপদে পাশে দাঁড়ান। অনেকেই তাদের এই সরলতা ও মানবিকতাকে দুর্বলতা ভেবে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ সম্পর্কের নামে, কেউ সহানুভূতির নামে, আবার কেউ পেশাগত স্বার্থে একজন দায়িত্ববান মানুষকে ব্যবহার করতে চায়। এটি নতুন কিছু নয়; যুগে যুগে এমন চিত্র দেখা গেছে।
প্রতারকরা কখনো এক রূপে আসে না। তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের রঙ বদলায়। কখনো বন্ধুর মুখোশ পরে, কখনো শুভাকাঙ্ক্ষীর পরিচয়ে, আবার কখনো নিরীহ মানুষের অভিনয় করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে। অনেকটা পানির মতো—যে পাত্রে রাখা হয়, সেই আকার ধারণ করে। কিন্তু রূপ পাল্টালেও তাদের মূল চরিত্র বদলায় না। দিনশেষে তারা প্রতারকই থেকে যায়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক সময় অন্যায় বা প্রতারণা করে কিছু মানুষ সাময়িকভাবে সফল হয়ে যায়। তারা মনে করে, কৌশলই জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। অনুশোচনা ছাড়াই অন্যের ক্ষতি করে নিজেদের বিজয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সমাজের কিছু অংশও কখনো কখনো সেই বাহ্যিক সাফল্যে বিভ্রান্ত হয়। কিন্তু ইতিহাস বলে, অন্যায়ের জয় কখনো স্থায়ী হয়নি। সত্যকে চাপা দেওয়া যায়, কিন্তু মুছে ফেলা যায় না।
এখানেই গণমাধ্যম ও সচেতন মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম শুধু সংবাদ প্রকাশ করে না; সমাজের আয়না হিসেবেও কাজ করে। অন্যায়, দুর্নীতি, প্রতারণা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার যখন আড়ালে লুকিয়ে থাকে, তখন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সেই অন্ধকারে আলো ফেলে। অনেক সময় প্রভাবশালী ব্যক্তি মনে করেন, অর্থ, ক্ষমতা কিংবা ভয় দেখিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু সত্য অনুসন্ধানে নিবেদিত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা সহজে সেই মিথ্যার বিজয় মেনে নেন না।


তবে এই লড়াই সবসময় সহজ নয়। সত্য বলার পথ কখনো কখনো ঝুঁকিপূর্ণও হয়ে ওঠে। তবুও সমাজে ন্যায়বোধ টিকিয়ে রাখতে কিছু মানুষ নিরলসভাবে কাজ করে যান। কারণ তারা জানেন, একটি অন্যায় চুপচাপ মেনে নেওয়া মানে ভবিষ্যতের আরও বড় অন্যায়ের পথ তৈরি করে দেওয়া।
একজন দায়িত্ববান মানুষেরও তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সবাইকে বিশ্বাস করা মানবিকতার পরিচয় হতে পারে, কিন্তু অন্ধ বিশ্বাস অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্পর্ক, দায়িত্ব কিংবা সহানুভূতির জায়গা থেকে কাউকে সাহায্য করা অবশ্যই ইতিবাচক বিষয়; তবে সেই সুযোগ কেউ অন্যায়ভাবে নিচ্ছে কি না, তা বুঝতে হবে। কারণ প্রতারণা শুধু অর্থ বা সম্পদের ক্ষতি করে না, এটি মানুষের মানসিক শক্তি ও বিশ্বাসের জায়গাকেও আঘাত করে।
জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য হলো—সময় সবকিছুর হিসাব রাখে। আজ যে মানুষটি অন্যকে কষ্ট দিয়ে, মিথ্যার আশ্রয়ে বা প্রতারণার মাধ্যমে নিজেকে সফল ভাবছে, কাল হয়তো তাকেই আবার সেই মানুষের সামনে দাঁড়াতে হবে। তখন হয়তো উচ্চারণ হবে—“আবার হবে দেখা, এ দেখাই শেষ দেখা নয় তো।”
এই বাক্যটি কেবল পুনর্মিলনের কথা বলে না; এটি দায়িত্ব, বিবেক ও কর্মফলের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। মানুষ হয়তো সাময়িকভাবে ক্ষমতার আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু সময়ের কাছে কেউ চিরদিন অদৃশ্য থাকতে পারে না। সত্য একদিন না একদিন প্রকাশ পায়ই।
সমাজে আস্থা ও মানবিকতা টিকিয়ে রাখতে হলে দায়িত্ববান মানুষদের যেমন সতর্ক হতে হবে, তেমনি সচেতন মানুষদেরও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। কারণ নীরবতা অনেক সময় অন্যায়ের শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে সত্য, সততা ও দায়িত্ববোধ সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
দিনশেষে মানুষ তার পরিচয় খুঁজে পায় কর্মে। প্রতারণা সাময়িক সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু সম্মান এনে দিতে পারে না। আর সততা হয়তো ধীরে এগোয়, কিন্তু তার পথ দীর্ঘস্থায়ী। তাই জীবনের প্রতিটি সম্পর্ক, দায়িত্ব ও সিদ্ধান্তে সচেতনতা জরুরি। কারণ পৃথিবী ছোট, সময় দীর্ঘ, আর দেখা হওয়ার সম্ভাবনা কখনোই শেষ হয়ে যায় না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর