1. admin@deshbanglakhabor.com : admin :
  2. e.mominbd@gmail.com : MOMIN :
  3. samira01606@gmail.com : SAMIRA : Sumaya Samira
  4. farhanaenterprise18@gmail.com : SHOFIKUL :
       
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কিশোরগঞ্জে পৈত্রিক জমিতে হামলার অভিযোগ, যুবককে কুপিয়ে জখম মোরেলগঞ্জে নারীসহ চার মাদককারবারিকে অর্থদন্ডসহ কারাদণ্ড খুলনায় জলবায়ু অভিবাসন কেন্দ্রের পরিচালন নির্দেশিকা প্রণয়নে যৌথ কর্মশালা অনুষ্ঠিত চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে, ছবি নিতে সাংবাদিকদের বাঁধা প্রতিবন্ধী নারীদের নেতৃত্ব, অ্যাডভোকেসি ও ফান্ডরেইজিং বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে ৪টি বিদ্যালয়ে ফল বিপর্যয়, সবাই ফেল কুড়িগ্রাম সীমান্তে দুই চোরাকারবারীসহ ৭৮ লক্ষ টাকার মালামাল উদ্ধার কুুড়িগ্রা‌মে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জেলের মৃত্যু, আহত ৫ দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধির পিতার ইন্তেকাল তারাগঞ্জে ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রংপুর মেডিকেলে

ইতিহাসের সারথি: তোফায়েল আহমেদ এবং একটি নক্ষত্রের অবসান।

  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়েছেন

ইন্তেজারুল আলম (শুভ)
‎আইনজীবী।
‎জেলা ও দায়রা জজ আদালত, গোপালগঞ্জ।


‎​— একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি:
‎​আজ ১ জুন, ২০২৬। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের পতন ঘটলো। চলে গেলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ‘৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার কাছে হার মেনে ৮২ বছর বয়সে তিনি পাড়ি জমালেন না-ফেরার দেশে। তাঁর এই প্রয়াণ কেবল একজন ব্যক্তির বিদায় নয়, বরং বাংলাদেশের জন্ম-ইতিহাসের একটি জীবন্ত অধ্যায়ের অবসান।
‎​বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় আর তোফায়েল আহমেদ—এই দুটি নাম যেন একে অপরের পরিপূরক। ষাটের দশকের উত্তাল ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ, এবং স্বাধীনতোত্তর বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের বাঁকে বাঁকে তাঁর কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল শোষিত মানুষের বজ্রনিনাদ।
‎​ছাত্ররাজনীতি ও ‘৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান
‎​বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর একটি ছিল ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান। আর এই অভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি ও সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক তোফায়েল আহমেদ।
‎​১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬-দফাকে কেন্দ্র করে যখন বাঙালি জাতিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছিল, তখন ছাত্রদের নিয়ে রাজপথে ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। তাঁর তেজস্বী নেতৃত্ব ও সুসংগঠিত ছাত্র আন্দোলনের চাপেই আইয়ুব খানের সামরিক জান্তা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেওয়া হয়।
‎​ঐতিহাসিক সেই দিনটি ছিল ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রায় ১০ লক্ষ বা তারও বেশি মানুষের বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তরুণ ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ইতিহাস তাঁকে এই অনন্য গৌরবের অংশীদার করেছে, যা কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষুণ্ন থাকবে।
‎​মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ:
‎​১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তোফায়েল আহমেদের ভূমিকা ছিল এক অনন্য উচ্চতায়। তিনি ছিলেন মুজিব বাহিনীর (BLF) অন্যতম প্রধান সংগঠক ও কমান্ডার। দেশের অভ্যন্তরে তরুণদের সংগঠিত করা, গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং রণকৌশল নির্ধারণে তিনি অসামান্য দক্ষতা দেখান। ২৫শে মার্চের কালরাত্রির পর যখন বাঙালি জাতি দিশেহারা, তখন যে কজন তরুণ নেতা হাল ধরেছিলেন, তোফায়েল আহমেদ ছিলেন তাঁদের অন্যতম প্রথম সারির যোদ্ধা।
‎​স্বাধীনতার পর, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং স্নেহধন্য রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের নির্মম ট্র্যাজেডির পর প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বারবার কারাবরণ করেছেন, কিন্তু আপস করেননি।
‎​সংসদীয় রাজনীতি ও উন্নয়ন:
‎​দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তোফায়েল আহমেদ মোট ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একজন সফল সংসদ সদস্য এবং সরকারের মন্ত্রী হিসেবে (বাণিজ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে) তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে তাঁর নিজ জেলা ভোলার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক এবং পরম আশ্রয়স্থল।
‎​একটি যুগের অবসান:
‎​তোফায়েল আহমেদের চলে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করলো। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য তাঁর ত্যাগ, সাহসিকতা এবং আদর্শ চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
‎​ইতিহাসের পাতায় তোফায়েল আহমেদ কোনো সাধারণ নাম নন; তিনি একটি দেশের জন্মবেদনার সাক্ষী, একটি স্বাধীন পতাকার রূপকারদের একজন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ইতিহাস যতকাল লেখা থাকবে, তোফায়েল আহমেদের নাম ততকাল স্বর্ণাক্ষরে জ্বলজ্বল করবে।
‎​আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। বিদায়, হে ইতিহাসের মহান সারথি!

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর