কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নে পৈত্রিক ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমিতে প্রবেশকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার রড-লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. রবিন মিয়া নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে চৌদ্দশত ইউনিয়নের বড়খালের পাড় এলাকায় বাদীর পৈত্রিক জমিতে।
এ ঘটনায় আহত রবিন মিয়ার বাবা মো. মুর্শিদ মিয়া কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
এজাহারে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মো. আব্দুল কাইয়ুম ধনু মিয়া (৬০), মো. সোহেল মিয়া (৩৫), মো. মকবুল হোসেন রুবেল (৪০), মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক পটু মিয়া (৬২) ও মো. কফিল উদ্দিন (৩৩)। তাদের সবার বাড়ি বড়খালের পাড় এলাকায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, তার বাবা মৃত মো. আব্দুল আজিজের মৃত্যুর পর পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এজাহারে আরও বলা হয়, বাদীর বড় ভাই মো. জমশেদ মিয়া ২০২১ সালে অবিবাহিত ও নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বাদী ও তার বড় বোন ওয়ারিশসূত্রে পান এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন।

বাদীর দাবি, ২০২২ সাল থেকে অভিযুক্তরা ওই জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। এ নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে উকিল দরবারও অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে মো. মুর্শিদ মিয়া অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন তিনি ও তার ছেলে রবিন মিয়া পৈত্রিক জমিতে কাজ করতে গেলে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রবিন মিয়ার ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মো. কফিল উদ্দিন ধারালো দা দিয়ে রবিন মিয়ার মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাম হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের গোড়ায় গুরুতর কাটা জখম হয়। পরে মো. সোহেল মিয়া ধারালো রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দিলে রবিন মিয়া সরে যাওয়ায় সেটি তার ঘাড়ের বাম পাশে লাগে। এতে ঘাড়েও গুরুতর কাটা জখম হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া কয়েকজন অভিযুক্ত লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে রবিন মিয়াকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন এবং অপর দুই অভিযুক্ত তার গলায় চাপ দিয়ে ধরেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, রবিন মিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাকে হামলাকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত রবিন মিয়াকে অটোরিকশাযোগে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী আরও জানান, ঘটনার পর চিকিৎসা ও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার আশায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করতে পারেননি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতিকার না পাওয়ায় পরবর্তীতে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় নিয়মিত মামলা রুজু ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বাদী মো. মুর্শিদ মিয়া।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।

Leave a Reply