মোঃ জোনায়েদ হোসেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় যাত্রীবাহী নৌকায় সংঘটিত আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মিঠামইন থানা পুলিশ।

অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, দেশীয় অস্ত্র এবং লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন সন্ধ্যায় প্রায় ২০ থেকে ২২ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মিঠামইন এলাকা থেকে করিমগঞ্জের বালিখলা নৌঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। যাত্রাপথে মিঠামইন থানার হাসানপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌকাটি কিছু সময় নোঙর করে রাখা হয়। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে নৌকাটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
রাত আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে নৌকাটি হাসানপুর ব্রিজের দক্ষিণ পাশের নদীতে পৌঁছালে ১০ থেকে ১২ জন মুখোশধারী ডাকাত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় এসে যাত্রীবাহী নৌকার গতিরোধ করে। দেশীয় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে তারা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. জামাল মিয়া বাদী হয়ে গত ১৫ জুন মিঠামইন থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর মিঠামইন থানা পুলিশ এবং কিশোরগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রথমে সাভার এলাকা থেকে ইছানুল হক ওরফে এহসানুল হক ফকির (২৬) এবং ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে জুলহাস উদ্দিন (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের আরও এক সক্রিয় সদস্য রুবেল মিয়া (২৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
অভিযানকালে ডাকাত দলের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ৫টি মোবাইল ফোন, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, রামদা, লোহার রড এবং ছোট-বড় প্রায় ২০টি বল্লম উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত আলামতগুলো মামলার তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন থানায় চুরি, মাদকসহ অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
পুলিশ জানায়, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply