1. admin@deshbanglakhabor.com : admin :
  2. e.mominbd@gmail.com : MOMIN :
  3. samira01606@gmail.com : SAMIRA : Sumaya Samira
  4. farhanaenterprise18@gmail.com : SHOFIKUL :
       
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মোহাম্মদপুরে কৃষি প্রনোদনা বিতরণ নিজ মাতৃভূমিতেই আমরা কেন নিরাপদ নই?নিরাপত্তাহীনতার বেদনায় রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকের আত্মজিজ্ঞাসা রাণীনগর ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত কাশিয়ানীতে ‘স্বপ্নছোঁয়া’ ফ্যাশন হাউজে আলফাডাঙ্গা’র গণমাধ্যমকর্মীদের আড্ডা ও কেনাকাটা এম.এ খালেক মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন সরদার মোঃ নুরুজ্জামান মোরেলগঞ্জে আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ অনুষ্ঠিত কাশিয়ানীর মহেশপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু। মহাম্মদপুর বিএনপি’র একাংশের বিভিন্ন দপ্তরের চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ। মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব—তবু কখনো কেন পশুকেও হার মানায়? দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটের ট্রেনের যাত্রাবিরতি; উচ্ছ্বসিত মহেশপুর-কাশিয়ানীর মানুষ

নিজ মাতৃভূমিতেই আমরা কেন নিরাপদ নই?নিরাপত্তাহীনতার বেদনায় রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকের আত্মজিজ্ঞাসা

  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার পড়েছেন

লেখক ~কবি কলামিস্ট ও সাংবাদিক
মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ

মাতৃভূমি—এই শব্দটি উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক টুকরো নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে বাঁচতে চায়, নিজের স্বপ্ন বুনতে চায়, সন্তানকে বড় করতে চায় এবং ভবিষ্যতের জন্য আশা লালন করে। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা থাকে—নিজ দেশের মাটিতে নিরাপদে বসবাস করা। কিন্তু বাস্তবতা যখন সেই প্রত্যাশাকে প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ করে, তখন হৃদয়ে এক গভীর বেদনা জন্ম নেয়। প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই আমাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ?
আজকের সমাজে এমন অনেক ঘটনা প্রতিদিন আমাদের সামনে আসে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধকে নাড়িয়ে দেয়। কোথাও চুরি, কোথাও ডাকাতি, কোথাও ছিনতাই, কোথাও নারী ও শিশু নির্যাতন, কোথাও রাজনৈতিক সংঘাত, কোথাও সামাজিক সহিংসতা। আবার কখনও দেখা যায়, একটি ছোট ভুল বোঝাবুঝি মুহূর্তের মধ্যেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসব ঘটনা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের নয়; পুরো সমাজের মনে ভয় ও অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলে।
একটি রাষ্ট্রের মূল শক্তি তার জনগণ। জনগণ যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তবে সেই রাষ্ট্রের উন্নয়ন, অর্থনীতি, শিক্ষা কিংবা সংস্কৃতির অগ্রগতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। কারণ নিরাপত্তাহীন মানুষ কখনোই সৃজনশীল হতে পারে না। যে শিক্ষার্থী প্রতিদিন ভয় নিয়ে বিদ্যালয়ে যায়, যে ব্যবসায়ী অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করেন, যে নারী সন্ধ্যার পর একা চলতে দ্বিধাবোধ করেন কিংবা যে বৃদ্ধ নিজের ঘরেই নিরাপত্তাহীন অনুভব করেন—তাদের জীবনে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়।
নিরাপত্তাহীনতার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। সামাজিক অবক্ষয়, নৈতিক মূল্যবোধের অবনতি, মাদকাসক্তির বিস্তার, বেকারত্ব, পারিবারিক শিক্ষার দুর্বলতা, আইন অমান্য করার প্রবণতা এবং অসহিষ্ণু মনোভাব—এসব একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যখন সমাজে সততা, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন অপরাধের পরিবেশ তৈরি হয়। আর অপরাধের বিস্তার মানুষের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়।
প্রযুক্তির উন্নয়ন যেমন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি নতুন ধরনের অপরাধেরও জন্ম দিয়েছে। সাইবার প্রতারণা, পরিচয় চুরি, অনলাইন হয়রানি কিংবা ডিজিটাল জালিয়াতির মতো অপরাধ এখন মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। ফলে নিরাপত্তার ধারণা এখন শুধু রাস্তাঘাট বা ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ডিজিটাল জগতেও মানুষকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।


তবে নিরাপত্তাহীনতার সব দায় কেবল রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দিলে বাস্তবতার পূর্ণ চিত্র ফুটে ওঠে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব যেমন আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন করা এবং বিচারব্যবস্থাকে কার্যকর রাখা, তেমনি নাগরিকেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আমরা যদি নিজেরাই আইনকে সম্মান না করি, সামাজিক দায়িত্ব ভুলে যাই, গুজব ছড়াই, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিই অথবা নীরব সমর্থন করি, তাহলে নিরাপদ সমাজ গঠন কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিবারও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি শিশুর প্রথম বিদ্যালয় তার পরিবার। সেখানে যদি নৈতিক শিক্ষা, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের চর্চা না হয়, তবে ভবিষ্যতে সেই শিশুর মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে যায়। একইভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য নয়, বরং একজন আদর্শ নাগরিক তৈরির ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করা উচিত।
রাজনৈতিক সংস্কৃতিও নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য, কিন্তু সেই ভিন্নতা যদি সহিংসতা, প্রতিশোধ কিংবা বিভাজনের রূপ নেয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা কখনোই সেই দ্বন্দ্বের বলি হওয়া উচিত নয়।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সত্য ও দায়িত্বশীল তথ্য যেমন মানুষকে সচেতন করে, তেমনি গুজব ও অপপ্রচার মুহূর্তের মধ্যে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই তথ্য প্রচারে সতর্কতা এবং যাচাই-বাছাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
একটি নিরাপদ মাতৃভূমি গড়তে হলে রাষ্ট্র, সমাজ এবং নাগরিক—এই তিন পক্ষকেই সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব, দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ—এসবই নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে হবে এবং নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে একটি শিশু নির্ভয়ে বিদ্যালয়ে যাবে, একজন নারী নিরাপদে কর্মস্থলে পৌঁছাবেন, একজন কৃষক নিশ্চিন্তে মাঠে কাজ করবেন, একজন ব্যবসায়ী স্বস্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করবেন এবং একজন বৃদ্ধ শান্তিতে নিজের ঘরে বসবাস করবেন। এমন একটি সমাজ, যেখানে মানুষ পরিচয়ের কারণে নয়, মানুষ হিসেবেই সম্মান ও নিরাপত্তা পাবে।
মাতৃভূমি কেবল মানচিত্রের একটি ভূখণ্ড নয়; এটি আমাদের পরিচয়, আমাদের ইতিহাস, আমাদের আত্মার ঠিকানা। এই ভূমি আমাদের জন্ম দিয়েছে, ভাষা দিয়েছে, সংস্কৃতি দিয়েছে, স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছে। তাই এই মাটিতে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি আমাদের জাতীয় চেতনাকেও আহত করে।
আসুন, আমরা সবাই নিজেদের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন হই, মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করি, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই এবং ভিন্নমতকে সহনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করি। কারণ নিরাপদ মাতৃভূমি গড়ে তোলার দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়, কেবল কোনো প্রতিষ্ঠানেরও নয়—এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। যখন আমরা এই সত্য উপলব্ধি করতে পারব, তখনই হয়তো একদিন গর্বের সঙ্গে বলতে পারব—হ্যাঁ, আমরা আমাদের নিজের মাতৃভূমিতেই নিরাপদ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর