মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ
আমার গ্রামখানি ছবির মতন,
যেখানে-ই হাত যেত, মিলত রতন।
গাঁওখানি মোর যেন সোনার মতন,
কৃষককূল হাতে করেছে যতন।
বৃক্ষ, ঘাস, লতা-পাতা নয়নাভিরাম,
মিলেমিশে আছে সবাই—নামে বাদুরা গ্রাম।
গাছে, মাছে, ফলে ভরা প্রতি বাড়িখানি,
সুখে-দুঃখে সবাই ভাগী হতো—সকলেই জানি।
উত্তরে বহে ভূতাখাল, ছোট শৌলা,
পশ্চিমে দোগনা খাল, শান্ত অবলা।
পূর্বে লাইনের খাল—জননী বিষখালী,
মাঝে বহু শাখা খালে আছে জোড়াতালি।
বিষখালীর জোয়ার আসে দিনে দুইবার,
ভাটির টানে পানি নেমে জাগে খালের চর।
দক্ষিণে বড়দীঘি, পূর্বপুরুষের দান,
ঐতিহ্য, সুনাম ছড়িয়ে রেখেছে জ্ঞাতির মান।
ভূতার জলে দুই পাড়ে জাল ফেলে জেলে,
মাছে ভরা জালখানা টেনে আনত কূলে।
ঘাইয়া ভরা কোড়াল, গলদা, পাবদা, শৌল, পুঁটি,
খারই ভরে উঠত মাছে—মুঠি মুঠি।
হাটবারে ধানের নৌকা সারি সারি যায়,
মাঝি-মাল্লার বৈঠার টানে নদী গান গায়।
জোয়ারে রাখাল গরু গোসলে ভাসায়,
স্মৃতিগুলো মনে হলে নীরবে কাঁদায়।
চরে চরে কাদা খেলায় শৈশববেলা,
খাল পারাপারে খেয়া ছিল কলার ভেলা।
সেই সুখ, সেই স্মৃতি কোথাও নাহি পাই,
সুখের সন্ধানে আজ সুখ খুঁজে বেড়াই।
শাপলা-শালুকে ভরা সবুজ বিলখালি,
নৌকা খেলার ছলে আনিতাম তা তুলি।
চেচরি পাতার ফল ছোট দানা দানা,
মা খই ভেজে বলত—“আর আনিস না!”
পালাভরা ধানের উঠোন ছিল ঘরে ঘরে,
একপাল মেইয়ের গরু আনি তাড়াহুড়ো করে।
পালা ভেঙে মেই মাড়াই হতো চক্রাকারে ঘুরে,
কোলের শিশু নিদ্রা ভুলত মধুর গানের সুরে।
পুরাভরা বারুইর ধানে সমান মোয়া-মুড়ি,
তাই নিয়ে রাত আনন্দে চলত হুরাহুরি।
ধানের গন্ধ ভেসে যেত মাঠের বাতাস ভরে,
গ্রামবাংলা হাসত তখন শ্রমের আনন্দ ঘিরে।
সাঁঝের রঙে রঙ্গিন হয় গ্রামের সব তরু,
ধুলোমাখা পথে ফেরে এক পাল গরু।
তাল-খেজুর রসের কাঁচামিঠা ঘ্রাণ,
তার লোভে নেচে উঠত ছোট্ট প্রাণ।
অযত্নে বেড়ে ওঠা বুনোফল খেতে,
বনে গিয়ে লুফে নিতাম দু’হাত পেতে।
বেতফল, লোহাগড়া, দুধফল যত,
পেইচ্চাগাব, আইডালী, কাটাবহুরী ফল তত।
এখন সুখ খুঁজতে শহর ঘুরি,
মিছে সুখের সন্ধানে মিছেই হারি।
আমার শৈশব এখন দীর্ঘ কবিতায়—
তাই তো সুখ পেতে বারবার ফিরে যাই
আমার গাঁ বাদুরায়।
শরীফ’স হাউজ
মঠবাড়িয়া
৩০/০৩/২৫ ইং
Leave a Reply