সংবাদদাতা: মাশরাফি সিকদার, মাগুরা
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে মাগুরার চার উপজেলার কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। তেলের অভাবে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে নিয়মিত সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে জেলায় ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার সময় মাগুরা ভাইনা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় তেল নিতে আসা কৃষকদের অবস্থান এবং মোটরসাইকেল চালকদের লম্বা লাইন।
জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ও পরিবেশ ভালো থাকায় জেলায় ধানের বাম্পার ফলন হবে। কিন্তু বর্তমানে তেলের সংকট থাকায় ধানের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এবার জেলায় ২৭ হাজার ৯০১ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। চলতি বছর ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮৯ টন চাল।
মাগুরা সদরের জগদল ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামের কৃষক কবির হোসেন বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে আমি ধানের জমিতে তেলের অভাবে সেচ দিতে পারছি না। এ বছর আমি পাঁচ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি। চাষের পরপর নিয়মিতভাবে সেচ দিয়ে আসছি। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে আমি ধানের জমিতে সেচ দিতে পারছি না। ফলে এ বছর ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাবো কিনা ভাবছি। ধানগাছ এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে ধানের শীষ বের হবে। এখন ধানের সেচ দেওয়ার উপযুক্ত সময়। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে আমি প্রায় ১০ দিন সেচ দিতে পারছি না। হাটে-বাজারে কোথাও তেল পাচ্ছি না।
মাগুরা সদরের নরসিংহাটি গ্রামের কৃষক জামিল হোসেন বলেন, মাগুরা শহরের পাম্পে গিয়েও মিলছে না তেল। শহরের সব পাম্পে তেল না দেওয়ার ফলে আমাদের সেচকাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাঝে মাঝে দুই-একটি পাম্পে তেল দিলেও লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও আমরা তেল পাচ্ছি না। পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না তেল। পাটের জমির বেহাল দশা— এ বছর পাট হবে কিনা জানি না।
মাগুরা সদরের চাউলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, তেলের অভাবে চলতি মৌসুমের ধানের সেচ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এবার আমি সাতবিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি। তেল না পেয়ে আমি দুই সপ্তাহ সেচ দিতে পারছি না। এ বছর জ্বালানি তেলের সংকটে ধানের জমিতে আমাদের গ্রামের অনেক কৃষক সেচ দিতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। তেল না পেয়ে সেচ দিতে পারছেন না অনেকে। তাই এ বছর ধানের ফলন শঙ্কার মুখে পড়েছে।
Leave a Reply