1. admin@deshbanglakhabor.com : admin :
  2. e.mominbd@gmail.com : MOMIN :
  3. samira01606@gmail.com : SAMIRA : Sumaya Samira
  4. farhanaenterprise18@gmail.com : SHOFIKUL :
       
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব—তবু কখনো কেন পশুকেও হার মানায়? দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটের ট্রেনের যাত্রাবিরতি; উচ্ছ্বসিত মহেশপুর-কাশিয়ানীর মানুষ কুড়িগ্রামে ৪টি বিদ্যালয়ে ফল বিপর্যয়, সবাই ফেল কুড়িগ্রামের উলিপুরে স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোরেলগঞ্জে ১০ জান গ্রেপ্তার দিনমজুর বাবার সাথে কৃষি জমিতে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটেজিপিএ-৫ পেল কুড়িগ্রামের পলাশ চন্দ্র রায় ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং এ অতিষ্ঠ তারাগঞ্জবাসী কুড়িগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশী যুবককে আটক বিএসএফ’র কিশোরগঞ্জে পৈত্রিক জমিতে হামলার অভিযোগ, যুবককে কুপিয়ে জখম মোরেলগঞ্জে নারীসহ চার মাদককারবারিকে অর্থদন্ডসহ কারাদণ্ড

মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব—তবু কখনো কেন পশুকেও হার মানায়?

  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৯ বার পড়েছেন

লেখক ~কবি কলামিস্ট ও সাংবাদিক
মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ

পৃথিবীর অসংখ্য জীবের মধ্যে মানুষকে বলা হয় সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। কারণ মানুষের আছে বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, যুক্তি, অনুভূতি এবং ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা। মানুষ শুধু নিজের প্রয়োজন মেটাতে পারে না, সে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে পারে, সমাজ গড়তে পারে, সভ্যতা নির্মাণ করতে পারে, অন্যের দুঃখ অনুভব করতে পারে এবং নিজের ভুল সংশোধন করার সুযোগও তার রয়েছে। এই অসাধারণ ক্ষমতাগুলোর কারণেই মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে স্বীকৃত।
কিন্তু একটি প্রশ্ন বারবার আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়—মানুষ যদি সত্যিই শ্রেষ্ঠ জীব হয়, তাহলে তার কিছু কাজ কেন কখনো কখনো পশুর আচরণকেও হার মানায়?
প্রশ্নটি মানুষের মর্যাদাকে ছোট করার জন্য নয়; বরং মানুষকে তার প্রকৃত মর্যাদায় ফিরিয়ে আনার জন্য।
পশু ক্ষুধার্ত হলে খাবারের সন্ধান করে। নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করে। বিপদে পড়লে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। কিন্তু অকারণে প্রতিশোধ নেওয়া, অন্যের সম্পদ দখল করা কিংবা নিছক বিনোদনের জন্য অন্যকে কষ্ট দেওয়া—এসব প্রবণতা সাধারণত পশুর স্বাভাবিক আচরণের অংশ নয়। অথচ মানুষ কখনো কখনো নিজের স্বার্থ, ক্ষমতা, লোভ কিংবা হিংসার কারণে এমন নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে, যা দেখে মনে হয় তার বিবেক যেন ঘুমিয়ে পড়েছে।
একটি পশু তার সন্তানকে বিপদের মুখে ফেলে সহজে পালিয়ে যায় না। অনেক প্রাণী নিজের জীবন বিপন্ন করে সন্তানকে রক্ষা করে। পাখি নিজের ঠোঁটে খাবার এনে ছানার মুখে তুলে দেয়। বন্য প্রাণীর মধ্যেও সন্তানকে ঘিরে থাকে গভীর মমতা। অথচ মানুষ—যে কিনা ভালোবাসা, দায়িত্ব ও ত্যাগের অর্থ বোঝে—কখনো কখনো নিজের স্বার্থের জন্য আপনজনকেও অবহেলা করে।
তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। পশু তার প্রবৃত্তির দ্বারা পরিচালিত হয়; মানুষ পরিচালিত হওয়ার কথা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা। তাই মানুষের ভুলকে শুধু ‘প্রবৃত্তি’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ মানুষ জানে সে কী করছে। সে বুঝতে পারে তার কাজ অন্যের ক্ষতি করছে। তবুও যদি সে অন্যায়কে বেছে নেয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে তার জ্ঞান ও বিবেকের ব্যবহার কোথায়?
মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। আকাশ জয় করেছে, সমুদ্রের গভীরে পৌঁছেছে, মহাকাশে মহাকাশযান পাঠিয়েছে, অসংখ্য রোগের চিকিৎসা আবিষ্কার করেছে। পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তের মানুষের সঙ্গে মুহূর্তে যোগাযোগ করতে পারছে। প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে করেছে সহজ ও গতিশীল।
কিন্তু একই মানুষ সেই জ্ঞানকে কখনো ধ্বংসের অস্ত্র বানিয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে, তেমনি ভুল হাতে তা মানুষের জীবন ধ্বংসও করতে পারে। অর্থাৎ জ্ঞান মানুষকে শক্তিশালী করেছে, কিন্তু সেই শক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে জ্ঞানই হয়ে উঠতে পারে বিপদের কারণ।
মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মস্তিষ্ক নয়, তার বিবেক। কারণ বুদ্ধিমান হওয়া আর ভালো মানুষ হওয়া এক বিষয় নয়। একজন মানুষ অত্যন্ত মেধাবী হয়েও নিষ্ঠুর হতে পারে। আবার একজন সাধারণ মানুষও অসাধারণ মানবিকতার পরিচয় দিতে পারে।
আমরা প্রতিদিন এমন অনেক দৃশ্য দেখি, যা আমাদের আশাবাদী করে। কেউ বিপদে পড়লে অপরিচিত মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। রাস্তায় অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয় কেউ। ক্ষুধার্ত মানুষকে নিজের খাবার ভাগ করে দেয় কেউ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা অন্য কোনো দুর্যোগে মানুষ নিজের নিরাপত্তার কথা ভুলে অন্যের পাশে দাঁড়ায়। তখন মনে হয়—হ্যাঁ, মানুষ সত্যিই শ্রেষ্ঠ জীব।
আবার বিপরীত দৃশ্যও আমাদের দেখতে হয়। সামান্য স্বার্থের জন্য মানুষ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। অর্থের জন্য বিশ্বাস বিক্রি করে। ক্ষমতার জন্য অন্যের অধিকার হরণ করে। সামাজিক মর্যাদার জন্য দুর্বল মানুষকে অপমান করে। কখনো গুজব ছড়িয়ে কারও জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। কখনো অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, অনেক সময় আমরা অন্যায়কে অন্যায় হিসেবে দেখেও চুপ থাকি। অন্যায়কারী যেমন দায়ী, তেমনি অন্যায় দেখে নীরব থাকা মানুষও কোনো না কোনোভাবে সেই পরিবেশকে শক্তিশালী করে। একটি সমাজ তখনই সুন্দর হয়, যখন সেখানে শুধু ভালো মানুষ থাকে না; বরং ভালো মানুষগুলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসও রাখে।
প্রকৃতপক্ষে মানুষকে পশুর সঙ্গে তুলনা করার উদ্দেশ্য পশুকে ছোট করা নয়। বরং মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া—তোমার হাতে যে বিবেক দেওয়া হয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা করো।
একটি পশু প্রতিহিংসার রাজনীতি বোঝে না। সে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্পদ কিংবা সামাজিক মর্যাদার হিসাব করে কাউকে ঘৃণা করে না। মানুষই এসব পরিচয়ের দেয়াল তৈরি করেছে। আবার মানুষই পারে সেই দেয়াল ভেঙে মানবতার বন্ধন তৈরি করতে।
মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব তার শক্তিতে নয়, তার সংযমে। তার সম্পদে নয়, তার উদারতায়। তার ক্ষমতায় নয়, ক্ষমতার সঠিক ব্যবহারে। তার কথার জোরে নয়, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহসে।
একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দেওয়া হয়তো পৃথিবী বদলে দেবে না। একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো হয়তো ইতিহাসে লেখা থাকবে না। একটি কাঁদতে থাকা শিশুর চোখের জল মুছে দেওয়া হয়তো কোনো পুরস্কার এনে দেবে না। কিন্তু এসব ছোট ছোট মানবিক কাজই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলে।
আমরা প্রায়ই সন্তানদের বলি—‘বড় মানুষ হও।’ কিন্তু বড় মানুষ হওয়ার অর্থ কি শুধু বড় চাকরি, বড় বাড়ি, বড় গাড়ি কিংবা অনেক অর্থের মালিক হওয়া? নিশ্চয়ই নয়। প্রকৃত বড় মানুষ তিনি, যিনি নিজের সামর্থ্য দিয়ে অন্যের জীবনকে একটু সহজ করেন; যিনি দুর্বলকে অবজ্ঞা করেন না; যিনি ভুল করলে ক্ষমা চাইতে পারেন; যিনি ক্ষমা করতে পারেন; যিনি অন্যায়ের সুবিধা নিতে অস্বীকার করেন।


মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব জন্মগত কোনো স্থায়ী সনদ নয়। এটি প্রতিদিনের আচরণে অর্জন করতে হয়। একজন মানুষ তার একটি ভালো কাজ দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে, আবার একটি নিষ্ঠুর কাজ দিয়ে নিজের সমস্ত অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
তাই আমাদের নিজেদের কাছেই প্রশ্ন করা প্রয়োজন—আমরা কেবল মানুষ হয়ে জন্মেছি, নাকি সত্যিকার অর্থে মানুষ হয়ে উঠেছি?
আমাদের চারপাশে যদি হিংসা বাড়ে, সহমর্মিতা কমে; যদি সত্যের চেয়ে মিথ্যা শক্তিশালী হয়; যদি অন্যায়ের চেয়ে নীরবতা নিরাপদ মনে হয়; যদি অর্থের কাছে বিবেক পরাজিত হয়—তাহলে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের অর্থ কী।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব হওয়ার দাবি মুখে বললেই প্রতিষ্ঠিত হয় না। সেই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হয় আচরণে, বিবেকে, মানবিকতায়।
শেষ পর্যন্ত মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে তার দুই হাত নয়, তার হৃদয়; তার মস্তিষ্ক নয়, তার বিবেক; তার ক্ষমতা নয়, তার মানবিকতা।
পৃথিবীতে মানুষই সর্বশ্রেষ্ঠ জীব—এ কথা আমরা গর্ব করে বলতে চাই। কিন্তু সেই গর্ব তখনই সত্যিকার অর্থে সার্থক হবে, যখন আমাদের আচরণ দেখে কোনো অসহায় মানুষ মনে মনে বলবে—‘হ্যাঁ, মানুষ এখনো মানুষের পাশে দাঁড়ায়।’
কারণ পশুর মতো বেঁচে থাকা সহজ;
কিন্তু সত্যিকারের মানুষ হয়ে বেঁচে থাকাই মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর