মোঃরফিকুল ইসলাম মিঠু ঢাকা প্রতিনিধি ।।
রাজধানীর উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেগা প্রকল্পের কাজ চললেও, সমন্বয়হীনতা ও ধীরগতির কারণে এখন তা এলাকাবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মাজার থেকে আটিপাড়া মোড় পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘসময় ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য বনাম বর্তমান চিত্র
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উত্তরখান ও দক্ষিণখানের জলাবদ্ধতা দূর করতে বড় বাজেটের এই পয়নিষ্কাশন ও সুয়ারেজ লাইন তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কোর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে এই উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজ পাওয়া স্থানীয় ছোট ঠিকাদারদের গাফিলতি ও ধীরগতির কারণে রাস্তা কেটে গর্ত করে মাসের পর মাস ফেলে রাখা হচ্ছে।
জনদুর্ভোগ যখন চরমে
সরেজমিনে দেখা যায়, মাজার থেকে আটিপাড়া মোড় এবং দক্ষিণখান থেকে মাজার পর্যন্ত রাস্তাগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
চলাচলে বিড়ম্বনা: রাস্তা খুঁড়ে রাখার ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি: সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, যা এলাকায় ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
জরুরি সেবা ব্যাহত: রাস্তার বেহাল দশার কারণে অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি যানবাহন এসব রাস্তায় ঢুকতে পারছে না।
এলাকাবাসীর আকুতি
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম মিঠু জানান, “উন্নয়ন কাজ নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই, কিন্তু কাজ শুরু করে ফেলে রাখার সংস্কৃতি আমাদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আমরা একটু শান্তিতে চলাফেরা করতে চাই।”
এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়নের নামে এই অন্তহীন অপেক্ষা আর কতদিন? স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের জোর দাবি—প্রকল্পের গতি বাড়িয়ে দ্রুত রাস্তাগুলো সংস্কার করে জনচলাচলের উপযোগী করা হোক।
Leave a Reply