কে এম শাকীর, নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর
কিশোরগঞ্জ উপজেলায় শ্বশুরের কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছেলের স্ত্রীকে মারধর করেছেন শ্বশুর, শাশুড়ি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য। ৯৯৯-এ কল করে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদখানা ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের মৃত কপিল উদ্দীনের মেয়ের সাথে নিতাই ইউনিয়নের মৌলভীরহাট এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে ওয়ালিয়ার রহমানের (৩২) বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে ওয়ালিয়ার ও সোহানা দম্পতির দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় সোহানা বাবার বাড়ি থেকে তিন লক্ষাধিক টাকা যৌতুক হিসেবে শ্বশুরকে দিয়েছিলেন। তবুও শ্বশুরের লোলুপ দৃষ্টি থেকে রেহাই পাননি সোহানা বেগম। সোহানার স্বামী গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে ঢাকায় কর্মরত থাকায়, তিনি সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে শ্বশুর আব্দুল মতিন প্রায়ই পুত্রবধূকে কু-প্রস্তাব দিতেন। গৃহবধূ দিনের বেলা গোসল করতে গেলে শ্বশুর বিভিন্ন অছিলায় উঁকি দিতেন এবং রাতে সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর সময় তিনি শোবার ঘরে ঢুকে কু-প্রস্তাব দিতেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শ্বশুর আব্দুল মতিন গৃহবধূর খাবার-দাবার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। নিরুপায় হয়ে গৃহবধূ স্বামীকে বিষয়টি জানালে, স্বামী উল্টো তাকেই বাবার কথা মতো চলার পরামর্শ দেন। কোনো উপায় না দেখে গৃহবধূ সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে যাওয়ার সময় শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদ তাকে মারধর করে আহত করেন এবং তার দুই বছরের সন্তানকে কেড়ে নেন। গৃহবধূ শ্বশুরের হাত থেকে রেহাই পেতে ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় গৃহবধূ কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি হন। গত দুই দিন ধরে সন্তানকে কাছে না পেয়ে গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে আব্দুল মতিনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার করার জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply