মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মিরুখালী-বাদুরা ভারানী খালের অপরিকল্পিত বাঁধ অপসারণে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে উপকারভোগীদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টায় বাদুরা গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান শরীফের বাড়ির আঙিনায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নাপিতখালী নিবাসী মো. রাজা মহারাজ। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং মৎস্যসম্পদের অবনতিসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
বক্তব্য রাখেন বাদল শরীফ, মাওলানা ছগির পঞ্চায়েত, টুকু পঞ্চায়েত, মনির শরীফ, সজীব শরীফসহ অনেকে। এছাড়া শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, দোগনা ও ভূতাখালে ২০১০ সালে নির্মিত অপরিকল্পিত ও অবৈধ বাঁধের কারণে গত ১৫ বছর ধরে মিরুখালী-বাদুরা ভারানী খালের স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও গ্রামীণ সড়কে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়, ফলে সেচব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি নারিকেল, সুপারি, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলজ গাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ায় মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে এবং এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে বাঁধ অপসারণ করে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
সভায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর বরিশাল অফিসের বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালে নির্মিত অবৈধ বাঁধের কারণে অন্তত ৭টি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের শিকার। পরিবেশ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।

সভায় উপস্থিত উপকারভোগীরা আইনি প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, অপরিকল্পিত বাঁধ অপসারণ করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমবে, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে

Leave a Reply