আলমগীর কবির, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মেধাবী কলেজছাত্র সুমন হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় জনতা। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ (২৯ জুন) সোমবার বিকেলে আলফাডাঙ্গা পৌর সদর বাজার চৌরাস্তায় এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বড়ভাগ গ্রামের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সুমনের সহপাঠী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং শত শত এলাকাবাসী ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি আলফাডাঙ্গা বাজার চৌরাস্তা থেকে শুরু হয়ে থানা গেটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় “সুমনের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই” স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে থানা চত্বর ও পুরো পৌর সদর এলাকা। বিক্ষোভকারীদের মূল ক্ষোভ ছিল—হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পার হলেও পুলিশ কেন এখনো কোনো আসামিকে আইনের আওতায় আনতে পারল না।
পরিস্থিতি বিবেচনায় আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বিক্ষোভকারীদের সামনে এসে একাত্মতা পোষণ করেন। তিনি অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের জোরালো আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন এবং পুনরায় মিছিল নিয়ে বাজার চৌরাস্তায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

সমাবেশে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, “মেধাবী কলেজছাত্র সুমনকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও হৃদয়বিদারক। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতরা সমাজের শত্রু। অবিলম্বে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।” একই সাথে তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আলী শিকদার, বিএনপি নেতা রেজাউল করিম রেজা, ছাত্রনেতা সোহান, আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজীম আহমেদ, নিহত সুমনের বড় ভাই শামীম শেখ, বোন সানজিদা ও সরজিনা প্রমুখ।
এ সময় সংহতি প্রকাশ করে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মোরাদ খান, ইসা খান এবং এলাকাবাসীর পক্ষে মো: রবিউল শেখ রবি, বখতিয়ার খান, শরিফুল ইসলাম, নাজমুল শেখসহ নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীবৃন্দ।

Leave a Reply