মোঃ সোহান শেখ, কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গোপালগঞ্জের মহেশপুর রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি শুরু করেছে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটের ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন। বহুল প্রত্যাশিত এই রেলসেবা চালু হওয়ায় মহেশপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর স্টেশনটিতে ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হওয়াকে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) তপ্ত দুপুরে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনে চড়ে মহেশপুর রেলস্টেশনে পৌঁছান গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম।
এ সময় স্টেশন এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয়রা ফুল দিয়ে সেলিমুজ্জামান সেলিমকে স্বাগত জানান। ট্রেনের যাত্রাবিরতির আনুষ্ঠানিকতাকে ঘিরেও ছিল মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মহেশপুরে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। এ দাবি পূরণ হওয়ায় এখন ঢাকা ও গোপালগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে সময় ও ব্যয়—দুটিই কমবে বলে আশা করছেন তারা।
মহেশপুর রেলস্টেশন চত্বরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম। তিনি বলেন, মহেশপুরের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এলাকার যোগাযোগ ও জনসেবার উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এস এম জিলানীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পরে অতিথিরা ফিতা কেটে মহেশপুর রেলস্টেশনে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনের যাত্রাবিরতির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে মহেশপুর ও আশপাশের জনপদের মানুষের জন্য নিয়মিত রেলযাত্রার নতুন সুযোগ তৈরি হলো।
সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, “মহেশপুরের সাধারণ মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পেরেছি। আগামীতেও গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাব।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মহেশপুরে ট্রেনের যাত্রাবিরতি শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়াবে না; এর প্রভাব পড়বে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও। সহজ যোগাযোগের ফলে ঢাকার সঙ্গে পণ্য ও মানুষের চলাচল বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে মহেশপুরবাসীর মধ্যে। তাদের প্রত্যাশা, নতুন এই রেলসেবা নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে বদলে যাবে এই জনপদের যোগাযোগব্যবস্থার চিত্র।
Leave a Reply