1. admin@deshbanglakhabor.com : admin :
  2. e.mominbd@gmail.com : MOMIN :
  3. samira01606@gmail.com : SAMIRA : Sumaya Samira
  4. farhanaenterprise18@gmail.com : SHOFIKUL :
       
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
​সারের কৃত্রিম সংকট রোধে তারাগঞ্জে মনিটরিং কমিটির সভা কিশোরগঞ্জে শিক্ষকদের মতবিনিময় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন দুই সংসদ সদস্য ওয়ালটন শোরুমের আড়ালে বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন আইসক্রিম কারখানা, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আশ্বাসের বৃত্তে বন্দী শিক্ষকএমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বঞ্চনা, প্রতিশ্রুতি ও প্রাপ্য অধিকারের দীর্ঘ অপেক্ষা মোরেলগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের জরিপে অনিয়মের অভিযোগ এনে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন আলফাডাঙ্গায় কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমীর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১০ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত অনিকেত আলাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪শ পরিবারে লিচুর চারা বিতরণ বকেয়া বাসা ভাড়া রেখেই লাপাত্তা উপজেলা প্রকৌশলী ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঝরলো একটি তাজা প্রাণ মোড়েলগঞ্জে উপকূলবাসীর সুপেয় পানির অধিকার নিশ্চিতে নাগরিক সমাবেশ ও পদযাত্রা

আশ্বাসের বৃত্তে বন্দী শিক্ষকএমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বঞ্চনা, প্রতিশ্রুতি ও প্রাপ্য অধিকারের দীর্ঘ অপেক্ষা

  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ বার পড়েছেন

লেখক ~ কলামিস্ট ও সাংবাদিক
মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ

একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারিগর শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান না; তিনি একটি প্রজন্মের চিন্তা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, মানবিকতা ও স্বপ্নকে গড়ে তোলেন। অথচ সেই শিক্ষক যখন নিজের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তার জন্য রাজপথে দাঁড়াতে বাধ্য হন, তখন প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড মনে করি?
বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত ও বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া যেন আশ্বাসের এক অন্তহীন বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। সরকার বদলেছে, মন্ত্রী বদলেছেন, রাজনৈতিক বক্তব্যের ভাষা বদলেছে; কিন্তু শিক্ষকদের বহু মৌলিক প্রত্যাশার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এসেছে ধীরগতিতে। ফলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—১৮ বছরের হিসাব কী দাঁড়ায়?
২০০৮ থেকে ২০২৬—এই সময়টাকে যদি শিক্ষকদের অধিকার ও প্রত্যাশার আয়নায় দেখা হয়, তাহলে সেখানে পাওয়া যায় কিছু অর্জন, কিছু প্রতিশ্রুতি, কিছু আন্দোলন এবং সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প।
২০০৮ সালের দিকে শতভাগ মূল বেতন পাওয়ার বিষয়টি শিক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়। এরপর ২০১৩ সালে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতায় কিছুটা বৃদ্ধি আসে। ২০১৫–১৬ সময়ে নতুন পে-স্কেলকে কেন্দ্র করে জটিলতা ও প্রত্যাশা তৈরি হয় এবং পরে তা বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু মূল প্রশ্ন থেকে যায়—শিক্ষকের সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তার প্রাপ্ত সুবিধার সামঞ্জস্য কতটা তৈরি হয়েছে?
এরপরও আশ্বাসের পর্ব থামেনি। ২০১৬ সালে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নামে প্রচলিত—“শিক্ষকদের বেতন হবে লাখ টাকা”—বক্তব্যটি শিক্ষকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। বক্তব্যটি বাস্তবে কতটা নীতিগত সিদ্ধান্তে রূপ নিয়েছে, সেটি আলাদা প্রশ্ন; কিন্তু এমন বক্তব্য যে শিক্ষকসমাজের মনে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ সৃষ্টি করেছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
২০১৮ সালে জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা আমরণ অনশন ও ধর্মঘটে যান। একই সময়ে ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতার মতো কিছু সুবিধা আসে। কিন্তু জাতীয়করণের দীর্ঘদিনের দাবি তখনও অমীমাংসিত থেকে যায়। ২০১৯ সালে আবারও মানববন্ধন ও আন্দোলন হয়েছে। ওই বছর ২,৭৩০টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ ছিল; কিন্তু এমপিওভুক্ত হওয়া আর একজন শিক্ষকের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া—দুটি এক বিষয় নয়।
২০২১ সালে শিক্ষকদের নিয়ে “ঘটনাচক্রে শিক্ষক” মন্তব্য হিসেবে যে বক্তব্যটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়, সেটিও শিক্ষকসমাজে ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দেয়। একজন শিক্ষক যদি জাতি গঠনের কারিগর হন, তাহলে তার পেশাকে কোনোভাবেই অনিচ্ছাকৃত বা আকস্মিক পেশা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষকতা একটি দায়িত্ব, একটি পেশা এবং একটি সামাজিক অঙ্গীকার।
২০২৩ সালে জাতীয়করণের দাবিতে আবারও শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচিতে যান। ২০২৪ সালে দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা ও আশ্বাসের পর্ব চলে। ২০২৫ সালেও জাতীয়করণের আন্দোলন অব্যাহত থাকে। একই বছরে বাড়িভাড়া ৭.৫ শতাংশ + ৭.৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও জাতীয়করণ-সংক্রান্ত কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি শিক্ষকদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করে। আর ২০২৬ সালে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেলের আলোচনা আবারও সামনে এসেছে।
অর্থাৎ ১৮ বছরের এই যাত্রায় একটি বিষয় স্পষ্ট—শিক্ষকদের দাবি হারিয়ে যায়নি; বরং বারবার ফিরে এসেছে। কখনো আন্দোলনের মাধ্যমে, কখনো আলোচনার টেবিলে, কখনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে, আবার কখনো নতুন কোনো সিদ্ধান্তের আশ্বাসে।
এখানে কোনো নির্দিষ্ট সরকার বা রাজনৈতিক দলকে এককভাবে দায়ী করা উদ্দেশ্য নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত সমস্যার দিকে দৃষ্টি দেওয়া। বিভিন্ন সরকারের সময়ে শিক্ষকদের দাবি, আন্দোলন, আলোচনা ও প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতা রয়েছে। তাই সমাধানও হতে হবে সরকার পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে উঠে একটি স্থায়ী রাষ্ট্রীয় নীতির মাধ্যমে।
একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক শুধু বেতন পাওয়ার জন্য শিক্ষকতা করেন না। তাকে পাঠদান করতে হয়, খাতা দেখতে হয়, ফলাফল তৈরি করতে হয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখতে হয়। অথচ তার নিজের সংসারের ব্যয়, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যদি অনিশ্চয়তা থাকে, তাহলে তার পেশাগত জীবনও স্বাভাবিকভাবেই চাপের মধ্যে পড়ে।
শিক্ষকের দাবি কোনো অনুগ্রহ নয়। এটি তার শ্রম, দায়িত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি। রাষ্ট্র যেমন শিক্ষকের কাছ থেকে দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করে, তেমনি শিক্ষকের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষককে জাতির মেরুদণ্ড বলা হলে সেই মেরুদণ্ডকে শক্ত রাখার মতো আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।
তবে সমাধান শুধু আন্দোলনে নয়, শুধু সরকারের আশ্বাসেও নয়। প্রয়োজন একটি সুস্পষ্ট ও সময়বদ্ধ রোডম্যাপ। কোন দাবি কখন বাস্তবায়িত হবে, কত অর্থ প্রয়োজন, কীভাবে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করা হবে—এসব বিষয় প্রকাশ্য ও স্বচ্ছভাবে নির্ধারণ করা দরকার। সব দাবি একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব না হলে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সময়সূচি দেওয়া যেতে পারে।
একই সঙ্গে শিক্ষকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার; কিন্তু আন্দোলনের কারণে যেন দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সরকার ও শিক্ষক—দুই পক্ষের মধ্যেই সংঘাতের বদলে সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
১৮ বছরের হিসাব তাই কেবল টাকা-পয়সার হিসাব নয়; এটি অপেক্ষার হিসাব, প্রত্যাশার হিসাব, আন্দোলনের হিসাব এবং প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের ব্যবধানের হিসাব।
আমরা চাই না, প্রতিটি নতুন সরকারের কাছে শিক্ষকরা আবার নতুন করে আশ্বাসের জন্য দাঁড়াবেন। আমরা চাই এমন একটি স্থায়ী নীতিমালা, যার সঙ্গে সরকার বদলের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। একজন শিক্ষক যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নয়, তার পেশাগত অবদান ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বের কারণে মর্যাদা পান।
কারণ শিক্ষক কোনো সরকারের অনুগ্রহপ্রার্থী নন। তিনি রাষ্ট্রের মানবসম্পদ নির্মাণের অন্যতম প্রধান অংশীদার। তার ন্যায্য অধিকার কোনো দয়া নয়, কোনো রাজনৈতিক উপহারও নয়—এটি তার প্রাপ্য।
যুগের পর যুগ যদি শিক্ষকরা শুধু আশ্বাস শুনে যান, তাহলে একসময় আশ্বাস শব্দটি তার অর্থ হারায়। তখন প্রয়োজন হয় নতুন কোনো প্রতিশ্রুতির নয়, প্রয়োজন হয় বাস্তব সিদ্ধান্তের।
১৮ বছরের অপেক্ষার পর তাই প্রশ্ন একটাই—আর কত আশ্বাস? আর কত আন্দোলন? আর কত প্রতিশ্রুতি?
এখন সময় আশ্বাসের বৃত্ত ভেঙে বাস্তবতার পথে হাঁটার। শিক্ষককে শুধু বক্তৃতায় জাতির মেরুদণ্ড না বলে, তার মেরুদণ্ড সোজা রাখার মতো আর্থিক, সামাজিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হোক—আশ্বাসে নয়, বাস্তবায়নে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর