মো: জোনায়েদ হোসেন জুয়েল,
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কৃষকদের সেবা দেওয়ার জন্য স্থাপিত কৃষি কার্যালয় পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়। দরজা-তালায় জং, ভেতরে ধুলাবালি ও ময়লায় ঢেকে থাকা বেঞ্চ-আসবাবপত্র দেখে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, নিয়মিত কার্যক্রম চলছে তো? এমনই অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের কৃষি কার্যালয় ঘিরে।
স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, নারান্দী ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিতভাবে কার্যালয়ে পাওয়া যায় না। ফলে কৃষকরা প্রয়োজনীয় সময়ে কৃষি পরামর্শ, সরকারি সহায়তা, সার-বীজ সংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, নারান্দী ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা হলেন— শামীম আহমেদ (বি ব্লক), রেজাউল করিম (সি ব্লক) এবং তাজুল ইসলাম (এ ব্লক)। তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কৃষি কার্যালয়ের অবস্থা অনেকটা অচল। কার্যালয়ের দরজা-তালায় দীর্ঘদিন ব্যবহারের অভাবের চিহ্ন, ভেতরের বেঞ্চ ও আসবাবপত্রে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে মনে হয়, নিয়মিত অফিস কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে না।
কৃষকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তাদেরই যদি নিয়মিত খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে সাধারণ কৃষকরা কোথায় যাবেন? সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির তথ্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি ও জনগণকে সেবা প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত এবং কৃষকদের স্বার্থে নারান্দী ইউনিয়ন কৃষি কার্যালয়ের কার্যক্রম সচল করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নারান্দী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন কৃষি উপসহকারী কিছু কর্মকর্তাগণ প্রতিদিন অফিসে আসেন না, তবে তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন বলে জানান।

Leave a Reply